বাংলা প্রবাদে আছে “অতি বড় ঘরনি না পায় ঘর”। বাংলাদেশের বিষয়টা অনেকটা তেমনি। পদ্মাতীরের রাষ্ট্র, অথচ পদ্মার ইলিশি গৃহে তুলতে বিনিময় করতে হয় কারিকারি টাকা। এটাই সত্য। তার সম্পূর্ণ স্পষ্ট উদাহরণ, রাজবাড়ীর জেলার দৌলতদিয়ার বিষয়। সাড়ে ছয় কেজি ওজনের তিনটি ইলিশের মূল্য হলো ২৬ হাজার টাকা। একজন বিদেশী এত টাকার মূল্য দিয়েই ইলিশটি অনলাইনে ক্রয় করেছেন।
রায়বাড়ী জেলার দৌলতদিয়া কাছে পদ্মা- যমুনার মোহনায় বৃহস্পতিবার আব্দুল হাই হালদার নামে এক মাঝি সকালে অন্যান্য জেলেদের সাথে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। অপরাহ্নে তাদের জালে বৃহৎ আকারের তিনটি ইলিশ ধরা পড়ে। আব্দুল ও তার সঙ্গীরা সহ সাজের বেলায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এলাকায় মাছ বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে। সেখানে মাছ ওজন করে দেখা যায়, তিনটি ইলিশের ওজন সাড়ে ছয় কিলো।
এরপরেই ফেরি ঘাটে আব্দুল হাই ৩৮০০ টাকা মূল্য দরে ২৪ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ইলিশ তিনটি কিনে নেয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহাজান। তারপর এক বিদেশি ক্রেতার কাছে মাছ তিনটি তিনি ২৬ হাজার মূল্যে বিক্রয় করেন। পদ্মা তিনটি ইলিশের এত মূল্য, এতোটুকু কৃপণতা করেনি বিদেশি ওই খরিদ্দার।
শাকিল সোহান মাছের বাজারে মালিক শাহজাহান শেখ বলেন, “পদ্মার ইলিশের অনেক চাহিদা।আমি ইলিশ ক্রয় করেই আমার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করি। এক লন্ডনের অধিবাসী আমার সাথে যোগাযোগ করে বগুড়ার আত্মীয়-পরীজনদের জন্য তিনটি মাছ চার হাজার টাকা কেজি দরে ২৬ হাজার টাকায় ক্রয় করে নেন”।
“রাজবাড়ী জেলা মাছ অধিকারী মোস্তফা আল রাজিবের কথায়, ২ কিলো ওজনের ইলিশ সব সময় দেখা যায় না। বড় ইলিশের দাম বেশি হয়। বড় ইলিশ এখন পদ্মায় আসবে ডিম ছাড়তে।” আর এর পরেই ফুলেফেঁপে উঠবে তাদের পরিবার। ব্যবসায়ীরাও লাভের মুখের দেখা পাবে। তবে নিজের দেশের ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করার জন্য সাধারণ খরিদ্দারদের পকেটে কতটা চাপ পড়বে, তা শক্ত প্রশ্ন বটে!

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.