বর্তমান সময়ে যখন মোটা মাইনের চাকরি পাওয়াই বহু তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন, ঠিক সেই সময় এক ২২ বছরের তরুণের সিদ্ধান্ত কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশজুড়ে। বছরে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার মতো বিপুল বেতনের চাকরি পেয়েও স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের এই সিদ্ধান্তের পিছনের কারণও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন ওই তরুণ।
মার্কেটিং অ্যান্ড অপারেশন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর তাঁকে চাকরির জন্য বিশেষ অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই একটি নামী এআই স্টার্টআপ সংস্থায় উঁচু পদে চাকরি পান তিনি। সেই সঙ্গে যে বেতন প্যাকেজ অফার করা হয়, তা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো—বাৎসরিক ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।
প্রথমদিকে সবকিছুই ছিল নিখুঁত। কাজ ভালো লাগছিল, অফিসের পরিবেশও সন্তোষজনক ছিল। মন দিয়ে কাজ করছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেওয়ার ২-৩ মাস পর থেকেই ধীরে ধীরে সমস্যা শুরু হয়। সমস্যা অফিস বা সহকর্মীদের সঙ্গে নয়, বরং কাজের সময়সূচির সঙ্গে।
দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ছেদ পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা ভাইয়ের জন্মদিনে একসঙ্গে থাকার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলো থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ক্রমশ একঘেয়েমি এবং মানসিক চাপ গ্রাস করতে থাকে তাঁকে।
নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন—এই উপলব্ধিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল। দীর্ঘ আট মাস ধরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আর নয়। স্বপ্নের মাইনের চাকরিটি ছেড়ে দেওয়াই তাঁর কাছে একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তা খবরের শিরোনামে উঠে আসে। এত অল্প বয়সে পাওয়া এমন উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে দেওয়াটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তবে ওই তরুণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। তাঁর মতে, অর্থের চেয়ে মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—সাফল্যের সংজ্ঞা কি শুধুই মোটা বেতন, নাকি জীবনের ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি?

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.