বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ে ব্যথা, হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা পেশি দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যা অনেকের জীবনেই দেখা দেয়। অনেকেই ভাবেন, এগুলি বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা, এড়ানো যায় না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাগুলির বড় অংশই নির্ভর করে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের উপর। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিক খাবার নির্বাচন করলে দীর্ঘদিন হাড়, পেশি ও অস্থিসন্ধি সুস্থ ও সচল রাখা সম্ভব।
মুম্বইয়ের বিশিষ্ট অস্থিরোগ চিকিৎসক মনন ভোরা জানাচ্ছেন, হাড় ও অস্থিসন্ধির জন্য আলাদা কোনও কঠিন ডায়েট মেনে চলার প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার সচেতনভাবে রাখলেই শরীর ভিতর থেকে শক্তিশালী হয়।
🥛 ১. ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
হাড়ের প্রধান উপাদান হল ক্যালসিয়াম। দুধ, দই, ছানা, পনির, চিজ়, সয়াজাতীয় খাবার এবং বিভিন্ন বাদাম নিয়মিত খেলে হাড়ের ঘনত্ব বজায় থাকে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা কমে।
🍳 ২. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
পেশি শক্ত রাখতে এবং অস্থিসন্ধির চারপাশের টিস্যু সুস্থ রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য। ডাল, মাছ, ডিম, কাবলি ছোলা, পনির, টোফু ও মুরগির মাংস শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। প্রোটিনের ঘাটতি হলে পেশি ঢিলে হয়ে যায়, ফলে জয়েন্টে চাপ বাড়ে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।
☀️ ৩. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার
শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না, তা শরীরে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন সকালের রোদে কিছুক্ষণ থাকলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করে। পাশাপাশি ডিমের কুসুম, মাশরুমের মতো খাবার ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকেরা।
🌿 ৪. প্রদাহনাশী খাবার
অস্থিসন্ধির ব্যথা ও জড়তা অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহের ফল। হলুদ, আদা, পালংশাক, কেল, ব্রকোলির মতো শাকসবজি এবং বেরি জাতীয় রঙিন ফল প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে জয়েন্ট আরও নমনীয় থাকে এবং চলাফেরা সহজ হয়।
🐟 ৫. স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার
সব ধরনের চর্বি ক্ষতিকর নয়। চিয়া বীজ, তিসি, বিভিন্ন বাদাম ও তেলযুক্ত মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অস্থিসন্ধির শুষ্কতা কমায় এবং নমনীয়তা বাড়ায়। চিকিৎসকের পরামর্শে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।
🔹 শেষ কথা
সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স বাড়লেও হাড় ও অস্থিসন্ধির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রতিদিনের পাতে এই পাঁচ ধরনের খাবার রাখাই হতে পারে সুস্থ ও সচল জীবনের সহজ চাবিকাঠি।