বিশ্বজুড়ে সোনার দামে নজিরবিহীন উত্থান শুধু বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই নয়, বিলাসবহুল স্থাপনা ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলছে। গত বছরের শেষ ভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার এক ব্যতিক্রমী কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ উঠে এল মাকাও থেকে।
মাকাওয়ের অন্যতম রাজকীয় ও বিলাসবহুল স্থাপনা গ্র্যান্ড এম্পেরর হোটেল সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, তারা তাদের হোটেলের লবির মেঝেতে শৈল্পিকভাবে বসানো খাঁটি সোনার বার বিক্রি করবে। ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই হোটেলটি এতদিন “সোনার হোটেল” নামেই পরিচিত ছিল, কারণ এর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছিল বিপুল পরিমাণ বাস্তব সোনা বা ফিজিক্যাল বুলিয়ন।
হোটেলের লবির মেঝের নিচে বসানো ছিল ডজনখানেক খাঁটি সোনার বার, যা এতদিন শুধুমাত্র আভিজাত্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হতো। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সেই সৌন্দর্যই এখন পরিণত হচ্ছে লাভজনক বিনিয়োগে।
হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে গ্র্যান্ড এম্পেরর হোটেল জানিয়েছে,
> “মূল্যবান ধাতুর বর্তমান উচ্চ বাজারদর বিবেচনা করে পরিচালন পর্ষদের মত, এই মুহূর্তে সোনাকে নগদে রূপান্তর করাই যুক্তিসংগত। এর ফলে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও বিমা সংক্রান্ত ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।”
সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, মোট ২,৫৩৯.৯১ আউন্স সোনা বিক্রি করে তারা প্রায় ৯৯.৭ মিলিয়ন হংকং ডলার (প্রায় ১২.৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সংগ্রহ করতে পারবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সোনা কোনও ভল্টে সংরক্ষিত ছিল না—বরং হোটেলের নকশার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছিল।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্র্যান্ড এম্পেরর হোটেল বর্তমানে তাদের ক্যাসিনো ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা বিনোদন ও অ্যামিউজমেন্টভিত্তিক নতুন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। সেই পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি জোগাড় করতেই এই সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেহেতু সংশ্লিষ্ট এলাকা সংস্কারের আওতায় আসছে, তাই পুরনো থিমের অংশ হিসেবে থাকা এই সোনা ভবিষ্যতের নকশার সঙ্গে আর মানানসই নয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৫,০০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও, বিশ্লেষকদের মতে এই উচ্চ স্তরেই দাম কনসলিডেট করছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হল—গত দুই দশকে গ্র্যান্ড এম্পেরর হোটেলের মেঝেতে বসানো সোনার মূল্য বেড়েছে ৮৫০ শতাংশেরও বেশি।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, সোনা শুধু অলঙ্কার বা সাজসজ্জার উপাদান নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি শক্তিশালী সম্পদ শ্রেণি। মাকাওয়ের এই “সোনার হোটেল” দেখিয়ে দিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলাসবহুল সৌন্দর্যও কীভাবে বহু মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে।