রনজি ট্রফিতে বোনাস পয়েন্ট নয়, সরাসরি জয়ের ছয় পয়েন্টও নয়—অসমের বিরুদ্ধে ড্র করে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন পয়েন্টেই সন্তুষ্ট থাকতে হল বাংলাকে। বুধবার কল্যাণীতে ম্যাচ ড্র ঘোষিত হওয়ায় প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার সুবাদে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। তবুও পাঁচ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে এখনও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই রয়েছে বাংলা। সামনে রয়েছে সার্ভিসেস ও হরিয়ানার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ।
দ্বিতীয় ইনিংসে জমাট অসম, বাংলার হতাশার দিন
এদিন সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেটে ৯৮ রান থেকে খেলা শুরু করে অসম। বাংলার চেয়ে তখনও ১৪৪ রানে পিছিয়ে অতিথিরা। ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দ্রুত সাত উইকেট। কিন্তু সেই কাজ আর করে ওঠা গেল না। দিনশেষে অসম ৯ উইকেটে ২৮২ রানে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেয়। লিড দাঁড়ায় ৪০।
ব্যাট হাতে দেনিশ দাস (৭৩), অধিনায়ক সুমিত ঘাদিগাওকর (৬৭) এবং শিবশঙ্কর রায়ের (৫২) জেদই মূলত বাংলার লড়াইয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মাটি কামড়ে খেলে যান তাঁরা, ধৈর্য হারাননি। আর বাংলার বোলাররা সেই চাপ ভাঙতে ব্যর্থ হন বারবার।
আগরতলার হতাশা যেন ফের ফিরে এল
এই দৃশ্য যেন আগরতলার ত্রিপুরা-যুদ্ধে দেখা হতাশার পুনরাবৃত্তি। সেখানে ৯৩ রানে ছয় উইকেট ফেলে দিয়েও তিন পয়েন্টের বেশি তুলতে পারেনি বাংলা। শেষ দিনে মহম্মদ সামির ব্যর্থতায় ত্রিপুরা ৩৩৬ রান টপকে গিয়েছিল। সেই ছবিই যেন এবারও দেখা গেল কল্যাণীর মাটিতে।
সামি-ঈশানদের অফ-ডে, উজ্জ্বল শাহবাজ
শুক্রবার দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন সামি। জোড়া উইকেট তুলে এনে সাত পয়েন্টের আশাও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার পুরোটাই ফিকে। ২–৭৫ নিয়ে উইকেটহীন তিনি। নির্বিষ দেখাল ঈশান পোড়েল (১–২৯), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১–২৯), মহম্মদ কাইফ (০–৩৭)-দেরও।
শাহবাজ আহমেদ অবশ্য উল্টো দিকটা সামাল দিলেন। ব্যাটে শতরানের পর বল হাতে পেলেন ৪–৫৭। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্য কেউ।
শেষ পর্যন্ত শুধু তিন পয়েন্ট
অসমের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ও বাংলার বোলারদের ধারহানিতে শেষ পর্যন্ত ড্র-ই চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে বোনাস পয়েন্টের স্বপ্ন ভেঙে এই ম্যাচ থেকেও বাংলার ঝুলিতে যোগ হল শুধু তিন পয়েন্ট।
আগামী দুই ম্যাচে পয়েন্টের লড়াই আরও ঘনীভূত হবে—এটাই এখন নজর অভিমন্যু ঈশ্বরণদের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.