বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই—এ খবর যেন বজ্রাঘাতের মতো নেমে এসেছে গোটা ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ার ওপর। কিছুদিন আগেই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন তিনি। পরিবার, অনুরাগী—সকলেই ভেবেছিলেন হয়তো আবার আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনই ফিরে পাবেন এই মহান অভিনেতা। কিন্তু সমস্ত প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করে চিরতরে না-ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ৮০-র দশকের স্টাইল আইকন, লাখো হৃদয়ের নায়ক ধর্মেন্দ্র।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু বলিউড নয়, টলিউড এবং আঞ্চলিক সব ইন্ডাস্ট্রিতেই নেমেছে শোকের ছায়া। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ বরাবরই বিশেষ স্নেহ পেত ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে। বহু বাঙালি অভিনেতার সঙ্গে যেমন তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, তেমনই তাঁকে ঘিরে ছিল অগণিত স্মৃতি।
অর্জুন চক্রবর্তীর হৃদয়ভরা স্মৃতিচারণ
টলিউড অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী, যিনি ধর্মেন্দ্রকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ আবেগঘন একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে উঠে এসেছে এমন সব অভিজ্ঞতা, যা শোনালে বুঝতে অসুবিধা হয় না—ক্যামেরার সামনে যেমন তিনি নায়ক ছিলেন, তেমনই ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন অনেকের প্রিয় মানুষের মতোই এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব।
অর্জুন লেখেন,
“হিরো তো অনেক আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে নায়ক হওয়া আমি নিজের চোখে দেখেছি।”
তিনি জানান, উদয়পুর মহারানা কলেজে অধ্যাপনা করার সময় ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ ছবির শুটিংয়ে এসেছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেখানে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে একটি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে সেটি মিটিয়ে দেন অর্জুনসহ কয়েকজন ছাত্র। আর সেই ঘটনার স্মৃতি ধর্মেন্দ্রর হৃদয়ে এতটাই গেঁথে ছিল যে বহু বছর পরেও তিনি তা ভোলেননি।
জুহুর বাড়িতে অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ
অনেক বছর পর অর্জুনের পরিচালিত ছবি টলি লাইটস-এ অভিনয়ের জন্য সানি দেওলের সঙ্গে কাজের সময়, অর্জুন যান জুহুর দেওল পরিবারের বাড়িতে শুটিংয়ের জন্য। সেখানে ঢুকেই চমকে ওঠেন তিনি। সামনে বসে ছিলেন বলিউডের হি-ম্যান!
অর্জুনের ভাষায়,
“আমি প্রণাম করতেই উনি আমায় জড়িয়ে ধরলেন। আমি জীবনে অনেক সুপুরুষ দেখেছি, কিন্তু এরকম দেখিনি। এ যেন এক অন্য জগতের মানুষ।”
তারপরই প্রকাশ্যে আসে সেই অবাক করা ঘটনা—উদয়পুরের সেই পুরোনো গল্পটি ধর্মেন্দ্রর একদম মনে ছিল।
নিজের গাড়ি দিয়ে সাহায্য করেছিলেন ‘হি-ম্যান’
অর্জুন বলেন, শুটিংয়ের জন্য বড় গাড়ির প্রয়োজন ছিল। এক মুহূর্ত ভাবেননি ধর্মেন্দ্র, নিজের গাড়িটিই দিয়ে দেন তাঁকে।
সানি দেওল নাকি বলেছিলেন—
“বাবা এই গাড়িতে কাউকে হাতও দিতে দেন না!”
মানুষ হিসেবে ধর্মেন্দ্রর এই উদারতা অর্জুনের মনে গেঁথে ছিল আজীবন।
আরও পড়ুন,
অসুস্থতার আগে সমাজমাধ্যমে শেষ পোস্টে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ধর্মেন্দ্র?
“সত্যিকারের নায়ক চলে গেলেন” — ভেঙে পড়েছেন অর্জুন
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকের সুরে অর্জুন লেখেন—
“আজ সত্যিকারের নায়কের প্রস্থান। ভীষণভাবে নাড়া দিচ্ছে আমাকে। ঈশ্বরের সন্তান ঈশ্বরের কাছেই ফিরে গেলেন।”
বাংলা, বলিউড এবং গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ আজ এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তি দেখল। পর্দায় তিনি ছিলেন অ্যাকশনের রাজা, অফস্ক্রিনে স্নেহশীল, উদারমনা, এক ডাউন-টু-আর্থ মানুষ। তাঁর চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি—যা পূরণ করা অসম্ভব।
সিনেমা যতদিন থাকবে, কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র ততদিন হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.