ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস: কী খাবেন, কী এড়াবেন

বর্তমান সময়ে ফ্যাটি লিভার একটি সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) শহর ও আধা-শহরাঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, চিনিযুক্ত খাবার, অলস জীবনযাপন এবং স্থূলতা এই রোগের প্রধান কারণ। লিভার আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন, মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই লিভারের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কী খাবেন?

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।

বাদাম ও বীজ যেমন কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্সসিড লিভারের জন্য উপকারী। এগুলিতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ওটস ও বার্লির মতো সম্পূর্ণ শস্য ফ্যাটি লিভারের জন্য দারুণ উপযোগী। এই জটিল কার্বোহাইড্রেটগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয়।

এছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফল, সবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা উচিত। সঠিক পরিমাণে জল পান করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কী এড়িয়ে চলবেন?

বারবার গরম করা তেল লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের তেলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

আল্ট্রা-প্রসেসড ও প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারে চর্বি জমার অন্যতম কারণ। তাই এগুলি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

সাদা রুটি, পেস্ট্রি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রোগকে আরও জটিল করে তোলে।

উপসংহার
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সামান্য ওজন কমালেও লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তাই আজ থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন, সুস্থ থাকুন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক