গঙ্গাসাগর মেলায় অগ্নিকাণ্ড থেকে রাজভবনে হুমকি, রাজনৈতিক উত্তাপ ও কনকনে শীত—উত্তাল বাংলা

শুক্রবার সকাল শুরু হতেই একাধিক ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ। পুণ্যতীর্থ গঙ্গাসাগর মেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি, ইডি অভিযানের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল এবং রাজ্যজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ—সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি বেশ চাঞ্চল্যকর।

মেলা শুরুর আগেই বড়সড় অঘটন ঘটে গঙ্গাসাগরে। শুক্রবার ভোরে কপিলমুনির মন্দির সংলগ্ন দু’নম্বর রাস্তার পাশে তৈরি একাধিক অস্থায়ী তাঁবুতে আচমকাই আগুন লাগে। প্রবল বাতাস ও দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ছাউনি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে আশেপাশের এলাকা খালি করে দেওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকির ঘটনায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইমেলের মাধ্যমে রাজ্যপালকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লোক ভবনের তরফে পুলিশকে জানানো হয়। ঘটনার পর কলকাতার লোক ভবনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেড-প্লাস নিরাপত্তায় থাকা রাজ্যপালের সুরক্ষায় প্রায় ৬০–৭০ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। মধ্যরাতে নিরাপত্তা আধিকারিকদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে। আই-প্যাকের অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশির বিরুদ্ধে শুক্রবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ২টোর সময় যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ইডির অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নথি ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি রাজ্যবাসীর স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অন্তত ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। রাত ও ভোরে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনাও রয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নিরাপত্তা শঙ্কা, রাজনৈতিক সংঘাত ও শীতের দাপটে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক