AC চালালেও বিল আসবে ফ্যানের মতো! IIT দিল্লির যুগান্তকারী প্রযুক্তি

গরম পড়তে না পড়তেই ঘরে ঘরে শুরু হয় এয়ার কন্ডিশনার বা AC-র ব্যবহার। আগে যা ছিল বিলাসবহুল সামগ্রী, আজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা হয়ে উঠেছে প্রায় অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু সমস্যার জায়গা একটাই— বিদ্যুতের বিল। AC যত বেশি চলবে, মাসের শেষে তত বেশি চমক দেবে বিলের অঙ্ক।

এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে পেয়েছেন Indian Institute of Technology Delhi-এর গবেষকরা। তাঁদের দাবি, নতুন এক বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে AC-র বিদ্যুৎ খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব— তাও আবার নতুন AC না কিনেই।

সাধারণ AC-তেই জুড়বে নতুন মডিউল

এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, নতুন করে কোনও AC মেশিন কেনার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা পুরনো বা বর্তমান AC-তেই একটি বিশেষ ‘অ্যাড-অন মডিউল’ সংযুক্ত করলেই হবে কাজ।

IIT দিল্লির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক Anurag Goyal-এর নেতৃত্বে গবেষক দল এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। তাঁদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল Journal of Building Engineering-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই মডিউল ব্যবহারে ঘর ঠান্ডা করার ক্ষমতা একটুও কমবে না, অথচ বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

সাধারণ AC ঘর ঠান্ডা করার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা (humidity) কমাতেও প্রচুর শক্তি ব্যবহার করে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কম্প্রেসারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘তরল ডেসিক্যান্ট’— অর্থাৎ লবণের দ্রবণ— এবং একটি বিশেষ পলিমার মেমব্রেন। এই সিস্টেম সরাসরি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। ফলে AC-র কম্প্রেসারকে আলাদা করে আর্দ্রতা কমানোর জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় না।

ফলাফল?

কম বিদ্যুৎ খরচ

কম্প্রেসারের উপর কম চাপ

দীর্ঘস্থায়ী AC মেশিন

একই রকম শীতলতা

কতটা সাশ্রয় সম্ভব?

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, সাধারণ একটি AC যেখানে প্রায় ১২০০ ওয়াট (1200W) বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, সেখানে এই নতুন মডিউল যুক্ত করলে তা নেমে আসতে পারে মাত্র ৮০০ ওয়াটে (800W)।

অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়!

এতে শুধু সাধারণ মানুষের মাসিক বিদ্যুৎ বিলই কমবে না, বরং গরমকালে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর যে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, সেটাও অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভারতে AC-র ব্যবহার আরও বাড়বে। তাই শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি। IIT দিল্লির এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে টেকসই কুলিং সিস্টেম তৈরিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই প্রযুক্তি বাস্তবে কার্যকর হলে গরমে ঠান্ডা থাকার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল নিয়েও আর এতটা দুশ্চিন্তা করতে হবে না সাধারণ মানুষকে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক