জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কেতু তার নক্ষত্র পরিবর্তন করতে চলেছে। এই দিনে শুক্র-শাসিত পূর্বাফাল্গুনী নক্ষত্রের দ্বিতীয় পর্ব থেকে প্রথম পর্বে প্রবেশ করবে কেতু। এই বিশেষ গ্রহগত পরিবর্তন চলবে আগামী ২৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। কেতুকে জ্যোতিষে ছায়াগ্রহ বলা হয়, যা হঠাৎ পরিবর্তন, বিচ্ছিন্নতা, ভুল সিদ্ধান্ত ও মানসিক দ্বন্দ্বের প্রতীক। তাই কেতুর নক্ষত্র পরিবর্তনকে ঘিরে জ্যোতিষমহলে বাড়ছে উদ্বেগ।
জ্যোতিষীদের মতে, এই সময় মিথুন, তুলা এবং মীন—এই তিনটি রাশির উপর কেতুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক হতে পারে। জীবনের নানা ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত, কাজের ক্ষতি, আর্থিক বিপর্যয় ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিথুন রাশি
মিথুন রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। চাকরি বা ব্যবসায় প্রচুর পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে দেরি হবে। অফিসে মনঃসংযোগের অভাবে ছোট ভুল বড় সমস্যার রূপ নিতে পারে। প্রমোশন বা নতুন সুযোগ আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে আবেগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অশান্তি তৈরি হতে পারে। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময় ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখাই মিথুন রাশির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তুলা রাশি
কেতুর এই গোচর তুলা রাশির জাতকদের আর্থিক দিক থেকে বেশি চিন্তায় ফেলতে পারে। পুরনো পাওনা টাকা আটকে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগে ক্ষতি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। অফিসে কাজের চাপ বাড়লেও ফল মিলবে ধীরগতিতে।
এছাড়া স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাও মাথাচাড়া দিতে পারে, যার ফলে চিকিৎসা খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময় ধৈর্যের বড় পরীক্ষা। নতুন চাকরি বা কাজের আশায় যাঁরা অপেক্ষা করছেন, তাঁদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যবসায় অর্ডার কমে যাওয়া বা হঠাৎ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
যানবাহন বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।
কেতুর কুপ্রভাব কমানোর সহজ প্রতিকার
জ্যোতিষবিদদের মতে, কিছু নিয়মিত প্রতিকার মানলে কেতুর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব—
প্রতি মঙ্গলবার হনুমান চালিসা পাঠ করলে মানসিক স্থিরতা বজায় থাকবে
বুধবার নিয়মিত গণেশ পূজা করলে কাজের বাধা দূর হবে
শনিবার কালো কুকুরকে রুটি খাওয়ানো, কালো তিল ও শীতবস্ত্র দান করলে কেতুর অশুভ প্রভাব হ্রাস পেতে পারে
এই সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও সংযত থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিকার—এমনটাই মত জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.