ভালোবাসা মানে কি? ‘মন মানে না’ মুক্তির আগে হিয়া–ঋত্বিকের খোলামেলা আড্ডা

বাংলা ছবির দর্শকের সামনে নতুন প্রেমের গল্প নিয়ে আসছে ‘মন মানে না’। মুক্তির আগে এই ছবির দুই মুখ—ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়—খোলামেলা আড্ডায় বললেন তাঁদের বন্ধুত্ব, অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি, ভালোবাসার সংজ্ঞা আর ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশার কথা।

সরস্বতী পুজো থেকেই ছবির প্রচার শুরু। স্কুল, কলেজ—সব জায়গাতেই দর্শকের উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তাঁরা। ঋত্বিকের কথায়, “এটা শুধু কলেজের ছেলেমেয়েদের গল্প নয়। পুরো পরিবারের দেখার মতো ছবি। স্কুলে শুধু টিচার নয়, বাচ্চাদের মা–বাবারাও খুব ভালো সাড়া দিয়েছেন।” কলেজে গিয়েও একই অভিজ্ঞতা—সব বয়সের দর্শকের আগ্রহ।

হিয়া ও ঋত্বিকের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু। হিয়ার মতে, এর মূল কারণ তাঁদের অফস্ক্রিন বন্ধুত্ব। “প্রথম দিন থেকেই একটা স্বাভাবিক কানেকশন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ওকে দেখে মনে হয়েছিল অনেক দিনের চেনা। আমরা খুব কমফর্টেবল, সব কিছু শেয়ার করতে পারি। তাই অনস্ক্রিনেও সেটা ধরা পড়েছে,” বললেন হিয়া। ঋত্বিক–হিয়ার সম্পর্ককে তিনি মজা করে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ বললেও, সেটের আরেক সহ-অভিনেতা সৌম্যের সঙ্গে তাঁর বন্ডিংও কম নয়—যদিও সেখানে ঝগড়াই নাকি যোগাযোগের ভাষা!

বলিউডে কাজ করেও কেন বাংলা ছবিতে অভিনয়ে আগ্রহী ঋত্বিক? তাঁর উত্তর স্পষ্ট। বেঙ্গালুরু, মাইসোরে বড় হওয়া, মুম্বইয়ে থাকা—বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচয়। “আমার কাছে ভালো গল্পের কোনও ভাষা হয় না। দর্শক হিসেবে যেমন মালয়ালি, মারাঠি, তেলুগু ছবি দেখি, অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ করব কেন?” তাঁর মতে, এখন রিজিওনাল সিনেমার যুগ। দূর থেকে অভিযোগ না করে মাঠে নেমেই বাংলা ছবির জন্য কাজ করা দরকার। উপরন্তু, ‘মন মানে না’-র চিত্রনাট্য একেবারে কমার্শিয়াল পটবয়লার—সবাইকে আনন্দ দেবে। ছবির মুক্তি ১৩ ফেব্রুয়ারি।

নতুন জুটি মানেই প্রত্যাশা। ঋত্বিকও তা মানছেন। তাঁর কথায়, “লাভ স্টোরির প্রাণই জুটির কেমিস্ট্রি। মিউজিক, ড্রামা, কেমিস্ট্রি—সব মিলিয়েই ভালো কমার্শিয়াল ছবি তৈরি হয়। আশা করছি দর্শক আমাদের ভালোবাসবে।”

প্রেম মানে কী? হিয়ার উত্তর খুব ব্যক্তিগত—“ভালোবাসা মানে আমার কাছে সেফ স্পেস। যেখানে গিয়ে সব বলা যায়, জানি কথাগুলো আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না। আমি যেমন, ঠিক তেমন থাকতে পারি—এটাই ভালোবাসা।” তবে আপাতত জীবনে ‘ধরে রাখার মানুষ’ নেই বলেই জানালেন তিনি—“যেদিন হবে, সবাই জানবে,” হাসতে হাসতে বললেন হিয়া।

ঋত্বিকের কাছে ভালোবাসার মানে একটু আলাদা। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন শহরে থাকার কারণে ‘বাড়ি’ তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট জায়গা নয়, বরং মানুষের সঙ্গে জড়িত অনুভূতি। “বাড়ির শব্দ, গন্ধ, আওয়াজ—এই অনুভব যখন কোনও মানুষের কাছ থেকে পাই, সেটাই আমার কাছে ভালোবাসা। বাড়ি ফেরার টানই ভালোবাসা,” বললেন তিনি।

স্টার কিড হওয়ার চাপ নিয়েও কথা বললেন শাশ্বত–মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা হিয়া। প্রথম সেটে তুলনার ভয় থাকলেও, খুব বেশি ক্যালকুলেট করলে অভিনয়ের সততা নষ্ট হয়ে যেত বলে মনে করেন তিনি। “আমি শুধু জানতাম আমি হিয়া, এটুকুই। সেটে সবাই আমাকে কমফর্টেবল করেছে।” বাবা-মায়ের সমর্থনও তাঁর বড় শক্তি—ভুল হলে পাশে থাকবেন, এই আশ্বাসই যথেষ্ট।

ছবি নিয়ে আশাবাদী দু’জনেই। হিয়ার কথায়, “আমরা আমাদের কাজ করেছি।” ঋত্বিক যোগ করলেন, “বাকিটা দর্শক বলবে।”
সব মিলিয়ে, ‘মন মানে না’ শুধু প্রেমের ছবি নয়—বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর বাড়ি ফেরার অনুভূতির গল্প নিয়ে আসতে চলেছে বড় পর্দায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক