চিনির বিকল্প প্রাকৃতিক সুইটনার: কতটা নিরাপদ, কী বলছে গবেষণা ও চিকিৎসকরা

বর্তমান সময়ে চিনি স্বাস্থ্যের অন্যতম বড় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত। ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ এবং মেটাবলিক সমস্যার সঙ্গে অতিরিক্ত চিনির সরাসরি যোগ রয়েছে বলে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন। সেই কারণেই অনেকেই পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক সুইটনারের দিকে ঝুঁকছেন। গুড়, মধু, খেজুর, স্টিভিয়া কিংবা মনক ফ্রুট—এই উপাদানগুলোকে অনেক সময় ‘স্বাস্থ্যকর বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এগুলি কি আদৌ সম্পূর্ণ নিরাপদ?

প্রাকৃতিক সুইটনারের সুবিধা কোথায়?

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাকৃতিক সুইটনারের কিছু পুষ্টিগুণ অবশ্যই রয়েছে। গুড়ে অল্প পরিমাণে আয়রন ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে, যা পরিশোধিত চিনিতে একেবারেই অনুপস্থিত। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
অন্যদিকে স্টিভিয়া সম্পূর্ণ উদ্ভিদজাত এবং এতে ক্যালরি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

Healthline এবং Verywell Health-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্টিভিয়া ও মনক ফ্রুটের গ্লাইসেমিক প্রভাব খুব কম। অর্থাৎ এগুলি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে না। এই কারণেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস রোগীরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এই সুইটনারগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

কোথায় রয়েছে সতর্কতার কারণ?

তবে প্রাকৃতিক হলেই যে তা সীমাহীন নিরাপদ, এমনটা নয়। চিকিৎসকদের মতে, গুড়, মধু বা খেজুর শেষ পর্যন্ত শর্করাই। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে এগুলিও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল বাজারজাত পণ্য। অনেক মনক ফ্রুট বা স্টিভিয়া-ভিত্তিক সুইটনারে ইরিথ্রিটল বা অন্যান্য কৃত্রিম উপাদান মেশানো থাকে। এই উপাদানগুলির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি, ফলে চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলছেন।

WHO কী বলছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র সাম্প্রতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নন-সুগার বা প্রাকৃতিক সুইটনার ব্যবহার করলেই যে ওজন কমবে বা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যগত বড় পরিবর্তন আসবে, তার কোনও জোরালো প্রমাণ এখনও নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল পরিবর্তন আসে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি, পরিমিত আহার এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে।

উপসংহার

প্রাকৃতিক সুইটনার নিঃসন্দেহে পরিশোধিত চিনির তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে সীমিত ও সচেতন ব্যবহারে। তবে এগুলিকে ‘পুরোপুরি নিরাপদ’ ভেবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বিপদের আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে, পরিমিত পরিমাণে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবেই প্রাকৃতিক সুইটনার ব্যবহার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক