মানুষ মাত্রেই ত্রুটি আছে—এ কথা যেমন বাস্তব, তেমনই জ্যোতিষশাস্ত্রও এই ধারণাকে সমর্থন করে। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্বে যেমন কিছু ভালো গুণ থাকে, তেমনই থাকে কিছু খারাপ দিক বা দুর্বলতা। জ্যোতিষ মতে, মানুষের রাশি তাঁর স্বভাব, আচরণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন এবং সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই একই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাশির মানুষ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। নিচে জেনে নেওয়া যাক ১২ রাশির মানুষের নেতিবাচক দিকগুলি—
মেষ (Aries)
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। কোনও কাজের আগে ভেবে দেখার বদলে তাঁরা অনেক সময় হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। পরে তার ফল ভোগ করতে হয়। সমস্যা বুঝলেও নিজেদের আচরণ বদলাতে অনীহা তাঁদের বড় দুর্বলতা।
বৃষ (Taurus)
স্বাচ্ছন্দ্যই বৃষ রাশির মানুষের সবচেয়ে বড় প্রিয় বিষয়। পরিচিত গণ্ডির বাইরে বেরোতে তাঁরা ভয় পান। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে না চাওয়ার ফলে জীবনের বহু সুযোগ তাঁদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
মিথুন (Gemini)
মিথুন রাশির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অস্থিরতা। এক কাজে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা তাঁদের পক্ষে কঠিন। একসঙ্গে অনেক কিছু শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত কোনওটিই ঠিকভাবে শেষ করতে পারেন না।
কর্কট (Cancer)
কর্কট রাশির মানুষরা ভীষণ সংবেদনশীল। কেউ কষ্ট দিলে তা তাঁরা সহজে ভুলতে পারেন না। অতীতের আঘাত আঁকড়ে ধরে রাখার স্বভাব ভবিষ্যতের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিংহ (Leo)
সিংহ রাশির মানুষরা সব সময় প্রশংসা এবং গুরুত্ব পেতে চান। নিজেকে কেন্দ্রবিন্দুতে না দেখলে তাঁদের মন খারাপ হয়। এই অহংবোধ অনেক সময় আপনজনদের দূরে সরিয়ে দেয়।
কন্যা (Virgo)
কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে। সব কিছু নিখুঁত না হলে তাঁরা বিরক্ত হন। অন্যের মতামত মানতে না চাওয়ার কারণে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়।
তুলা (Libra)
তুলা রাশির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সিদ্ধান্তহীনতা। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে তাঁদের অনেক সময় লাগে। এই দ্বিধার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বৃশ্চিক (Scorpio)
বৃশ্চিক রাশির মানুষরা নিয়ন্ত্রণ করতে ভালোবাসেন। সব কিছু নিজের মতো করে চালানোর মানসিকতা তাঁদের মধ্যে প্রবল। অতিরিক্ত কর্তৃত্বপরায়ণতা সম্পর্ক জটিল করে তোলে।
ধনু (Sagittarius)
ধনু রাশির মানুষ স্বাধীনচেতা হলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দুর্বল। নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে তাঁরা সহজেই পুরোনো দায়িত্ব থেকে সরে যান, যা বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যা তৈরি করে।
মকর (Capricorn)
মকর রাশির জাতক-জাতিকারা কাজের প্রতি অত্যধিক আসক্ত। কাজের চাপে পরিবার এবং নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। এর ফলে কাছের মানুষদের মধ্যে অভিমান জমে ওঠে।
কুম্ভ (Aquarius)
কুম্ভ রাশির মানুষ যুক্তিবাদী। আবেগের গুরুত্ব অনেক সময় বুঝতে পারেন না। প্রিয়জনের অনুভূতিকে উপেক্ষা করার কারণে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
মীন (Pisces)
মীন রাশির মানুষরা কল্পনার জগতে থাকতে ভালোবাসেন। বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গেলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়ে যায়, যা নানা সমস্যার জন্ম দেয়।
উপসংহার
জ্যোতিষ মতে, এই নেতিবাচক দিকগুলি জানা থাকলে মানুষ নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। সচেতনতার মাধ্যমেই বদভ্যাস কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন আরও সুন্দর করে তোলা যায়।