সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি খবর ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে—পতঞ্জলি নাকি ভারতের বাজারে লঞ্চ করেছে নতুন একটি ইলেকট্রিক স্কুটার, যার দাম মাত্র ১৪ হাজার টাকা, আর রেঞ্জ নাকি এক চার্জে ৪৪০ কিলোমিটার! এমন আকর্ষণীয় দাবি প্রকাশ হওয়ার পরই অনেক মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যায়। কিন্তু সত্যিই কি পতঞ্জলি ইলেকট্রিক স্কুটার এনেছে? নাকি পুরো খবরটাই ভুয়ো? চলুন ধাপে ধাপে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যাক।
ভাইরাল হওয়া দাবি—কী বলা হচ্ছে?
বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং বিশেষ করে ইউটিউব চ্যানেলগুলো দাবি করছে যে পতঞ্জলি একটি “অল নিউ ইভি স্কুটার” বাজারে এনেছে, যার স্পেসিফিকেশন নিম্নরূপ—
রেঞ্জ: ৪৪০ কিলোমিটার
ব্যাটারি: লিথিয়াম-আয়ন
চার্জিং টাইম: ৪–৫ ঘন্টা
টপ স্পিড: ঘণ্টায় ১০০ কিমি+
ওজন: ৭৫–৮০ কেজি
দাম: মাত্র ১৪,০০০ টাকা
রঙ: সাদা, নীল, কালো ও ধূসর
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই অনেক মানুষ ধরে নিয়েছিলেন যে এটি সত্যিই বাজারে আসতে চলেছে।
পতঞ্জলি কি কখনও স্কুটার বানিয়েছে?
পতঞ্জলি মূলত আয়ুর্বেদিক ওষুধ, ফুড প্রোডাক্ট, FMCG সামগ্রী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য বাজারজাত করে থাকে।
কোম্পানিটি প্রযুক্তি বা অটোমোবাইল খাতে কাজ করে না। তাই আকস্মিকভাবে একটি হাই-টেক ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে আনার খবর প্রথম থেকেই সন্দেহ তৈরি করেছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—
👉 পতঞ্জলির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্কুটার সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা নেই।
অর্থাৎ কোম্পানির পক্ষ থেকে এমন কোনও লঞ্চের অস্তিত্ব নেই।
স্পেসিফিকেশনেই গলদ—রেঞ্জের দাবি অবাস্তব
ভারতের ইভি মার্কেটে বর্তমানে সর্বোচ্চ রেঞ্জের স্কুটার Simple One, যা একবার চার্জে চলে প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার।
অন্যদিকে হাই-এন্ড ইলেকট্রিক বাইক Ultraviolette Tesseract এর রেঞ্জ প্রায় ২৬১ কিমি—এত রেঞ্জ পেতেই প্রয়োজন হয় ৬ kWh ব্যাটারি।
এখন প্রশ্ন হলো—
🔹 একটি সাধারণ স্কুটারের ডিজাইনে কি ৬ kWh বা তার বেশি ব্যাটারি ফিট করা সম্ভব?
👉 প্রায় অসম্ভব।
তাহলে ৪৪০ কিমি রেঞ্জ কোথা থেকে এলো?
এটি স্পষ্টতই অবাস্তব এবং প্রযুক্তিগতভাবে অসংগত একটি দাবি।
উপরন্তু, ভাইরাল খবরগুলোতে ব্যাটারির ক্যাপাসিটি পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি—যা আরও সন্দেহ বাড়ায়।
দাম শুনেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত—এটি ১০০% ভুয়ো খবর
আজকের দিনে—
একটি সাধারণ সাইকেলের দাম– ১০,০০০ টাকার কাছাকাছি
একটি ইলেকট্রিক স্কুটারের শুধু ব্যাটারির দামই– ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা
তাহলে সম্পূর্ণ স্কুটারের দাম ১৪,০০০ টাকা হওয়া প্রায় অসম্ভব।
যদি কোনো কোম্পানি এত সস্তায় ইলেকট্রিক স্কুটার বানাতে পারত, তাহলে আজ ভারতের ইভি মার্কেটে বিপ্লব ঘটে যেত।
এ কারণে ইভি বিশেষজ্ঞরা সহজেই বুঝে যান—
👉 এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো দাবি।
ফেক নিউজ কীভাবে ছড়াল?
সম্ভবত ক্লিকবেট ও ভিডিও ভিউ বাড়ানোর জন্য—
কিছু ইউটিউব চ্যানেল
ফ্যাক্ট-চেকহীন ব্লগ
অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
এই ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করে। অনেকেই শিরোনামের আকর্ষণ দেখে সেটি বিশ্বাসও করে নেন।
কিন্তু কোনও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই খবর রিপোর্ট করেনি, কারণ এমন লঞ্চ ঘটেইনি।
ফ্যাক্ট চেক: কী জানা গেল?
✓ পতঞ্জলির স্কুটার লঞ্চের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো
✓ রেঞ্জ, দাম, স্পেসিফিকেশন—সবই গড়া গল্প
✓ কোম্পানির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে এর কোনও উল্লেখ নেই
✓ প্রযুক্তিগতভাবে ৪৪০ কিমি রেঞ্জ অসম্ভব
✓ ১৪ হাজার টাকায় ইভি স্কুটার তৈরির ধারণা অবাস্তব
উপসংহার
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো খুব সহজ। তবে প্রত্যেকটি চমকপ্রদ খবর বিশ্বাস করার আগে তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
পতঞ্জলির ১৪ হাজার টাকার ইলেকট্রিক স্কুটারের খবরটি অনলাইন গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।
অতএব, এমন অবাস্তব ও ভিত্তিহীন দাবিতে কান না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.