মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে প্রতিবছর পালিত হয় সরস্বতী পুজো। বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবী বাগদেবীর আরাধনায় এই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষার্থীদের কাছে সরস্বতী পুজো মানেই আবেগ, নিষ্ঠা ও আশার এক বিশেষ দিন। ভোর থেকেই উপোস করে অঞ্জলি দেওয়ার মধ্য দিয়ে মা সরস্বতীর কাছে জ্ঞানের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন ছাত্রছাত্রীরা।
২০২৫ সাল প্রায় শেষের পথে। নতুন বছরের শুরুতেই তাই অনেকের মনে প্রশ্ন—২০২৬ সালে সরস্বতী পুজো কবে পড়েছে এবং অঞ্জলির শুভ সময় কখন?
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার (বাংলা ৯ মাঘ) পালিত হবে সরস্বতী পুজো বা বসন্ত পঞ্চমী।
কখন দেবেন অঞ্জলি?
পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ২২ জানুয়ারি রাত ১টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৩ জানুয়ারি রাত ১২টা ২৯ মিনিটে। যেহেতু শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালে সরস্বতী পুজো সম্পন্ন করার রীতি রয়েছে, তাই ২৩ জানুয়ারি সকালই অঞ্জলি দেওয়ার সর্বোত্তম সময়।
সকালের দিকে পুজো ও অঞ্জলি দেওয়াই শাস্ত্রসম্মত বলে মনে করা হয়। সেই সময় মা সরস্বতীর উদ্দেশে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম নিবেদন করেন ভক্তরা।
সরস্বতী পুজোর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র
“ওঁ জয় জয় দেবী চরাচরসারে, কুচযুগ-শোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।।
নমঃ সরস্বত্যৈ নমো নমঃ নিতাং ভদ্রকাল্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ।।
এষ সচন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বত্যৈ নমঃ।।”
এই মন্ত্রে তিনবার অঞ্জলি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র
“নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল-লোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচরসারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।। ”
সরস্বতী পুজোর জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ কিছু সামগ্রীর—আমের মুকুল, দোয়াত ও খাগের কলম, বই, বাদ্যযন্ত্র, পলাশ ফুল, গাঁদা ফুল ও বাসন্তী রঙের মালা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এ দিন ছাত্রছাত্রীরা বই-খাতা ও কলম মা সরস্বতীর চরণে অর্পণ করে থাকেন।
লোকাচার অনুযায়ী, সরস্বতী পুজো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কুল খাওয়া নিষেধ। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় কুল পুরোপুরি পাকে না এবং তা খেলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণেই পুজোর পরে অঞ্জলি দিয়ে কুল খাওয়ার রীতি বহুদিন ধরে প্রচলিত।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের সরস্বতী পুজো পড়েছে ২৩ জানুয়ারি, আর এদিন সকালেই অঞ্জলি দেওয়াই হবে সবচেয়ে শুভ। বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদে নতুন বছর হোক জ্ঞান, সাফল্য ও শুভ সূচনার প্রতীক—এই কামনাই সকলের।