দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Trisha Krishnan আবারও শিরোনামে। কারণ, অভিনেতা Vijay-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই গুঞ্জনের মাঝেই তৃষার ব্যক্তিজীবন, পুরনো সম্পর্ক এবং বিয়ে সম্পর্কে তাঁর মতামত আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দাম্পত্য জীবন নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর স্ত্রী Sangeeta Sornalingam পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ের এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনও পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি।
এই বিতর্কের মাঝেই এক অনুষ্ঠানে বিজয়কে দেখা যায় এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকতে। এই ঘটনাই আরও জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। অনেকের মতে, সেই অভিনেত্রীই তৃষা। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তৃষা।
অতীতেও সম্পর্কের গুঞ্জন
তৃষার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এর আগেও বহুবার আলোচনা হয়েছে। একসময় তাঁর নাম জড়িয়েছিল জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেতা Rana Daggubati-এর সঙ্গে। শোনা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি এবং দু’জনেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর অভিনেত্রীর জীবনে আসেন চেন্নাইয়ের ব্যবসায়ী ও প্রযোজক Varun Manian। তাঁদের সম্পর্ক এতটাই এগিয়েছিল যে ২০১৫ সালে বাগ্দানও সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাগ্দানের প্রায় ছয় মাসের মধ্যেই হঠাৎ করে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
কেন ভেঙেছিল বাগ্দান?
তৃষা বা বরুণ—কেউই প্রকাশ্যে এই বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কারণ জানাননি। তবে বিনোদন জগতের অন্দরের খবর অনুযায়ী, পারিবারিক আপত্তিই ছিল প্রধান কারণ। শোনা যায়, বরুণের পরিবার চাইছিলেন তাঁদের পুত্রবধূ এমন একটি পরিবারের মেয়ে হোক যারা ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত। একজন অভিনেত্রীকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করতে তাঁরা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না বলেই নাকি এই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
অভিনয় ছাড়বেন না—বাগ্দানের দিনই ঘোষণা
বরুণের সঙ্গে বাগ্দানের সময়ই তৃষা সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বিয়ে হলেও তিনি অভিনয় ছাড়বেন না। তিনি বলেছিলেন, অভিনয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই পেশার সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান।
বিয়ে নিয়ে তৃষার ভাবনা
বরুণের সঙ্গে বাগ্দান ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় একাই ছিলেন তৃষা। সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করে অসুখী দাম্পত্যে থাকার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ভালোবাসা এবং বোঝাপড়া।
তৃষার মতে, শুধুমাত্র সামাজিক চাপে বিয়ে করে পরে বিবাহবিচ্ছেদের দিকে যাওয়ার চেয়ে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করাই ভালো। তাই জীবনে যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যার সঙ্গে সত্যিই সুখে থাকা সম্ভব, তবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
আবারও আলোচনায় অভিনেত্রী
বর্তমানে তৃষা ৪০ বছরে পা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও তিনি বরাবরের মতোই নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। নতুন সিনেমা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং পেশাগত সাফল্যের মধ্যেই এগিয়ে চলেছেন অভিনেত্রী।
থলপতি বিজয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন কতটা সত্য, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই বিতর্কের মাঝেই তৃষার পুরনো মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—তিনি জীবনে সুখী সম্পর্ক চান, কিন্তু তা যেন তাড়াহুড়ো করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত না হয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.