আজকের দ্রুতগতির জীবনে কাজের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং পারিবারিক টানাপোড়েন একসঙ্গে মিলে বহু মানুষের জীবনকে অশান্ত করে তুলছে। অফিসের ডেডলাইন, ব্যবসায় লোকসানের দুশ্চিন্তা কিংবা বাড়িতে মা–স্ত্রীর সঙ্গে ছোটখাটো মতবিরোধ—সব মিলিয়ে অনেকেরই মেজাজ থাকে চড়া। এই মানসিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ে ঘুম, শারীরিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার ওপর।
বাস্তুশাস্ত্র মতে, মানুষের জীবন শুধু তার কর্মের ওপর নয়, বরং তার চারপাশের পরিবেশ ও শক্তির ভারসাম্যের ওপরও নির্ভরশীল। ঘরের ভিতরের নেতিবাচক শক্তি, আলো-বাতাসের অভাব বা কিছু ভুল অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র কেবল দিকনির্দেশ বা আসবাবের অবস্থান নিয়েই নয়, বরং মানসিক স্থিতি ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করার কথাও বলে।
অনেক সময় কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মন খারাপ লাগে, অল্পতেই রাগ হয় বা বিরক্তি জমে থাকে। এই ধরনের মানসিক অস্থিরতা দীর্ঘদিন চললে তা পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তুশাস্ত্রে রুপোকে চন্দ্রের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, যা মনের শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক। তাই বালিশের নীচে একটি রুপোর কয়েন রেখে ঘুমালে মানসিক চাপ কমে এবং ঘুমের গুণগত মান উন্নত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
ব্যবসা বা চাকরিতে বারবার বাধা এলে হতাশা আরও বাড়ে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দোকান বা কর্মস্থলের দক্ষিণ দিকে পর্যাপ্ত আলো জ্বালিয়ে রাখলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাসও জোরদার হয়।
আইনি জটিলতা বা আদালতের মামলা দীর্ঘদিন চললে মানসিক শান্তি নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। বাস্তুশাস্ত্রে পিতল ধাতুকে শুভ শক্তির বাহক বলা হয়েছে। ঘরের ঠাকুরঘরে একটি পিতলের বাঁশি রাখলে মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে এবং সমস্যা মোকাবিলার শক্তি জোগায় বলে মনে করা হয়।
সমাজে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রেও বাস্তুশাস্ত্র দান ও সহানুভূতির ওপর জোর দেয়। মাছকে খাদ্য দান করার মতো ছোট কাজ মানুষের মনে ইতিবাচকতা বাড়ায়, যার প্রভাব আচরণে পড়ে এবং সামাজিক সম্পর্ক উন্নত হয়।
সবশেষে বলা যায়, এই টিপসগুলো কোনও জাদুকাঠি নয়। এগুলো মানসিক সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করলেই প্রকৃত উপকার পাওয়া যায়। শান্ত মন, ইতিবাচক চিন্তা ও সঠিক পরিবেশ—এই তিনের সমন্বয়ই পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ কাটিয়ে জীবনে ফেরাতে পারে স্বস্তি ও ছন্দ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.