ভারতীয় মধ্যবিত্ত ঘরে পুরোনো জামাকাপড় নতুন কাজে লাগানোর রীতি বহু দিনের। ছেঁড়া-ফাটা জামা, পুরোনো শাড়ি বা প্যান্ট অনেক সময়েই ঘর মোছা, ধুলো ঝাড়ার কাপড় বা পাপোস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাইরে থেকে দেখলে বিষয়টি খুব স্বাভাবিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অনেকেই একে সঞ্চয় বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র এই অভ্যাসকে কী চোখে দেখে, তা জানলে অনেকেই অবাক হবেন।
বাস্তুশাস্ত্র মতে ঘর পরিষ্কার করা মানে শুধু ধুলো-ময়লা দূর করা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাড়ির শক্তির প্রবাহ বা এনার্জি ব্যালান্স। বিশ্বাস করা হয়, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত জামাকাপড়ে মানুষের শরীরের শক্তি, অনুভূতি, মানসিক চাপ ও স্মৃতির প্রভাব থেকে যায়। সেই কাপড় দিয়ে যদি নিয়মিত ঘর মোছা হয়, তবে সেই পুরোনো ও নেতিবাচক শক্তি বাড়ির মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ করে যেসব জামাকাপড় অসুস্থতা, দুঃখের সময় বা মানসিক অবসাদের মধ্যে পরা হয়েছে, সেগুলি ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করলে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে বলে বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ আছে। এর প্রভাব হিসেবে অকারণ মন খারাপ, কাজে মন না বসা, পরিবারের মধ্যে ছোটখাটো অশান্তি কিংবা অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
রঙের বিষয়টিও বাস্তুশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ। খুব গাঢ়, কালচে বা মলিন রঙের পুরোনো কাপড় নেতিবাচক শক্তি বেশি আকর্ষণ করে বলে মনে করা হয়। আবার ছেঁড়া, অতিরিক্ত পুরোনো বা নোংরা কাপড় ব্যবহার করলে ঘরের পবিত্রতা নষ্ট হয় বলেও বিশ্বাস প্রচলিত।
তবে সব পুরোনো কাপড়ই যে অশুভ, তা নয়। যদি কাপড় পরিষ্কার, হালকা রঙের এবং ইতিবাচক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে অনেক বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মনে করেন এতে তেমন ক্ষতি হয় না। তবুও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী ঘর মোছার জন্য আলাদা কাপড় রাখা সবচেয়ে ভালো, যা শুধু পরিষ্কারের কাজেই ব্যবহার হবে।
আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো, পুরোনো জামাকাপড় দিয়ে ঘর মোছা হলে বাড়িতে লক্ষ্মীর শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন নুন বা গঙ্গাজল মিশিয়ে ঘর পরিষ্কার করা শুভ বলে ধরা হয়। এতে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় বলে বিশ্বাস।
সব মিলিয়ে, বাস্তব জীবনে সুবিধাজনক মনে হলেও পুরোনো জামাকাপড় দিয়ে ঘর মোছা বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী মানসিক শান্তি, আর্থিক প্রবাহ ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভ্যাস বদলে সচেতন হওয়াই অনেকের মতে বুদ্ধিমানের কাজ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.