সাম্প্রতিক সময়ে ওজন কমানোর জন্য ওজ়েম্পিক, উইগোভি, মউনজ়রো ও সাকসেন্ডার মতো ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এগুলি নিছক ‘স্লিমিং ওষুধ’ নয়; মূলত টাইপ ২ ডায়াবিটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ওজন হ্রাস এদের একটি অতিরিক্ত প্রভাব মাত্র। তাই এই ওষুধ নেওয়ার আগে সচেতন হওয়া জরুরি।
কীভাবে কাজ করে এই ওষুধগুলি?
এই ওষুধগুলি জিএলপি-১ (Glucagon-Like Peptide-1) এবং জিআইপি (Glucose-Dependent Insulinotropic Polypeptide) নামক দুই হরমোনের উপর কাজ করে। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার পর এগুলি চারটি প্রধান কাজ করে—
1. ইনসুলিন ক্ষরণ বাড়ায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে।
2. গ্লুকাগনের কার্যকারিতা কমায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
3. পাকস্থলীতে খাবার দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখে, ফলে দ্রুত খিদে পায় না এবং ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়।
4. মস্তিষ্কে খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়, ফলে খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে।
ফলে ধীরে ধীরে শরীরের ওজন কমতে শুরু করে।
কারা নিতে পারেন?
চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ প্রধানত—
টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য
স্থূলত্বে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য
যাঁদের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ৩৫-এর বেশি
অথবা ডায়াবিটিস ও হৃদরোগ/স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো কো-মর্বিডিটি থাকলে BMI ২৭-এর বেশি
এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়।
কারা এড়িয়ে চলবেন?
সবাই এই ওষুধ নিতে পারেন না। বিশেষ করে—
যাঁদের প্যানক্রিয়াটাইটিসের ইতিহাস আছে
গলব্লাডারে পাথর রয়েছে
পরিবারে থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস আছে
প্রাণীর উপর পরীক্ষায় থাইরয়েড ক্যানসারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। তাই আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া এই ওষুধ নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
৬১% চর্বি কমলেও পেশি কমার ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওজন কমার ক্ষেত্রে প্রায় ৬১% চর্বি ঝরে, কিন্তু পাশাপাশি প্রায় ৩৯% পেশিও কমে যেতে পারে। ফলে শারীরিক দুর্বলতা ও শরীর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা ও পেশি মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে ও কতদিন নিতে হয়?
এই ওষুধ সাধারণত সপ্তাহে একবার ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমি ভাব
অম্বল, গ্যাস, ঢেকুর
বমি
ডায়রিয়া
বিরল ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াসের সমস্যা
শেষকথা
ওজ়েম্পিক বা অনুরূপ ওষুধ ওজন কমাতে কার্যকর হলেও এটি কোনও প্রসাধনী সমাধান নয়। ডায়াবিটিস ও স্থূলত্ব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। নিজে থেকে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।