বাঙালি গৃহস্থ বাড়িতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা একটি চিরাচরিত রীতি। বিশ্বাস করা হয়, দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় সংসারে আসে সুখ, শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি। বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়াতে এবং নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে লক্ষ্মী পূজার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত বৃহস্পতিবার দিনটি দেবী লক্ষ্মীর পূজার জন্য বিশেষ শুভ বলে মনে করা হলেও অনেক পরিবারে মঙ্গলবারও লক্ষ্মী পূজা করা হয়।
বর্তমানে বাজারে নানা ধরনের ছোট-বড় লক্ষ্মী মূর্তি ও ছবি সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু সব ধরনের মূর্তি বা ছবি গৃহস্থ বাড়ির জন্য সমানভাবে শুভ নয়—এমনটাই বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র। শাস্ত্র মতে, নির্দিষ্ট কিছু রূপের লক্ষ্মী মূর্তি বা ছবিই বাড়িতে পুজো করা উচিত, যা সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, পদ্মফুলের উপর আসীন দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি গৃহস্থ বাড়ির জন্য অত্যন্ত শুভ। পদ্ম ফুল পবিত্রতা ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। এই রূপে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে এবং আর্থিক স্থিতি মজবুত হয় বলে বিশ্বাস।
গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত দ্বি-বাহু বিশিষ্ট লক্ষ্মী মূর্তির পুজো করা হয়। এই রূপটি সংসারী জীবনের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে যদি কেউ চার বাহু বিশিষ্ট লক্ষ্মী মূর্তির পুজো করেন, তাতেও কোনও অশুভ ফল হয় না। জ্যোতিষ মতে, এই মূর্তিটিও সমানভাবে শুভ ও কল্যাণকর।
আরও পড়ুন:Astro Tips:জন্মসংখ্যা অনুযায়ী ওয়ালপেপার বদলালেই ফিরতে পারে ভাগ্য!
এছাড়াও দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণু একসঙ্গে গরুড়ের পিঠে বসে রয়েছেন—এমন ছবি বা মূর্তি বাড়িতে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। এই রূপটি সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, বাড়িতে এই ছবি থাকলে বাস্তু দোষ অনেকাংশে কেটে যায় এবং সংসারে স্থায়িত্ব আসে।
অনেকেই বাড়ি বা দোকানে দেবী লক্ষ্মী ও গণেশের মূর্তি একসঙ্গে পুজো করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই যুগল রূপও অত্যন্ত শুভ। গণেশ বিঘ্ননাশক এবং লক্ষ্মী ধন ও সৌভাগ্যের দেবী—দু’জনের সম্মিলিত আরাধনা করলে কাজে সাফল্য ও আর্থিক উন্নতি হয় বলে বিশ্বাস।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গৃহস্থ বাড়িতে লক্ষ্মী মূর্তি বা ছবি রাখার ক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্রের নির্দেশ মেনে চললে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ আরও সুগম হয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.