শীতে কেন নিঃশব্দে বাড়ে উচ্চ রক্তচাপ? কারণ ও সতর্কতা

শীতকাল এলেই অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে, এমনকি নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ার পরেও। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ-এর গবেষণায়ও বলা হয়েছে, যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের শীতের মরসুমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এর অন্যতম কারণ হল ঠান্ডার প্রভাব। শীতের সময় শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে ধমনী ও শিরা স্বাভাবিকভাবেই সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এর ফলে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয় কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস, যা নিঃশব্দে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে প্রক্রিয়াজাত ও নুন-দেওয়া খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। হিমায়িত খাবার, প্যাকেটবন্দি স্যুপ, ভাজাভুজি বা ফাস্ট ফুডে নুনের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত নুন শরীরে জল ধরে রাখে, যার ফলে রক্তচাপ আরও বেড়ে যায়। তাই এই সময় ঘরে রান্না করা কম নুনের খাবার খাওয়া এবং পাতে আলাদা করে নুন দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

এই মরসুমে মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের লোভও বাড়ে। কেক, পেস্ট্রি, পায়েস, হালুয়া বা গুড়ের তৈরি মিষ্টিতে ফ্যাট ও চিনি বেশি থাকে। এগুলি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে ধমনীতে ‘প্লাক’ জমাতে পারে। ফলস্বরূপ রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

শরীরচর্চার অভাব শীতের আরেকটি বড় সমস্যা। ঠান্ডার কারণে অনেকেই হাঁটাহাঁটি বা নিয়মিত ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, বিশেষত বয়স্করা। দৈনন্দিন চলাফেরা কমে গেলে ওজন বাড়ে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

ওজন বৃদ্ধি শীতকালে একটি সাধারণ সমস্যা। বেশি খাওয়া, কম ঘাম হওয়া এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার কারণে শরীরে বাড়তি চাপ পড়ে। অতিরিক্ত ওজন রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, তাই সুস্থ থাকতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া শীতে গরম ও কড়া পানীয়ের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ঘন ঘন চা-কফি পান বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে দারচিনির জল, আদার জল বা অন্যান্য ভেষজ গরম পানীয় গ্রহণ করা উপকারী হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শীতকালে শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর করলে চলবে না। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ওজন ও পানীয়—সবকিছুতেই সংযম ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তা সত্ত্বেও যদি রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায় বা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শই সর্বোত্তম পথনির্দেশ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক