উত্তুরে হাওয়ার শিরশিরানি শুরু হতেই আলমারি থেকে বেরিয়ে আসে পছন্দের পশমি সোয়েটার, জ্যাকেট বা কার্ডিগান। কিন্তু আরাম পেতে গিয়ে অনেকের ক্ষেত্রেই উল্টো সমস্যা দেখা দেয়—গায়ে সোয়েটার চাপাতেই শুরু হয় চুলকানি, জ্বালা, লালচে দাগ বা র্যাশ। শীতের এই পরিচিত সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে ত্বকের বিশেষ কিছু প্রতিক্রিয়া, যা অনেকেই অবহেলা করে থাকেন।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পশমি পোশাকজনিত ত্বকের সমস্যার মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে।
১. যান্ত্রিক ইরিটেশন (Mechanical Irritation):
উলের তন্তু সাধারণত অমসৃণ বা রাফ হয়ে থাকে। এই তন্তু সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে ঘর্ষণের কারণে চুলকানি বা সুড়সুড়ি অনুভূত হয়। যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, শুষ্ক ত্বক রয়েছে বা একজিমার প্রবণতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক বেশি দেখা যায়।
২. অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস:
অনেকেরই উলের প্রতি নয়, বরং উলে ব্যবহৃত রং, ডাই বা কাপড় প্রক্রিয়াকরণের সময় ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। এই ক্ষেত্রে ত্বকে লালচে চাকা চাকা দাগ, তীব্র চুলকানি, ফুসকুড়ি বা ছোট ফোস্কাও দেখা দিতে পারে। বারবার একই পোশাক পরলে সমস্যা ক্রমশ বাড়ে।
৩. ঘাম ও তাপ জমে হিট র্যাশ:
ভারী সোয়েটার শরীরের তাপ ও ঘাম আটকে রাখে। এই উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের অনুকূল হয়ে ওঠে, যার ফলে হিট র্যাশ বা ঘামাচি দেখা দিতে পারে।
সাধারণ চুলকানি না অ্যালার্জি—চেনার উপায়
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণ ইরিটেশন হলে সোয়েটার পরার সঙ্গে সঙ্গেই অস্বস্তি শুরু হয় এবং খুলে ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমে যায়। কিন্তু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, দাগ বা ফুসকুড়ি সহজে সারে না এবং পুনরায় সোয়েটার পরলে আরও বাড়তে থাকে।
কী করলে রক্ষা পাবেন?
শীতের আরাম উপভোগ করতে চাইলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট—
সোয়েটারের নিচে অবশ্যই পাতলা সুতির পোশাক পরুন
সরাসরি পশমের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
মেরিনো উল, বাঁশ তন্তু বা ফ্লিসের মতো নরম কাপড় বেছে নিন
নতুন সোয়েটার ব্যবহারের আগে অবশ্যই ধুয়ে নিন
নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
চুলকানি শুরু হলেই পোশাক খুলে ফেলুন
আরও পড়ুন:Lifestyle : চল্লিশের পর পুরুষদের যৌন ক্ষমতা কমে কেন? সুস্থ থাকতে জানুন কার্যকর উপায়
আরও পড়ুন:Lifestyle : খুদের সামনেই পোশাক বদল? সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কেন এই অভ্যাস বিপজ্জনক
ত্বকের সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে বা গুরুতর আকার নেয়, তাহলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। শীত উপভোগ করুন, তবে ত্বকের যত্ন নিতে ভুলবেন না।