World Stroke Day 2025: ২৭ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে স্ট্রোকের ঘটনা। চিকিৎসকের মতে, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসই মূল দায়ী। জানুন সতর্কতার উপায়।
দুর্ঘটনার মতোই স্ট্রোকও কখনও বলে আসে না। একসময় ৬০ বছর বয়সের পরেই যেটি দেখা যেত, এখন তা অল্পবয়সীদের মধ্যেও ভয়াবহ হারে বাড়ছে। বিশেষত ২৭ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের ঘটনা বাড়ায় চিকিৎসকরা চিন্তিত। মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার নিউরোসার্জন ডা. নিরূপ দত্ত হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় জানালেন, ভারতে স্ট্রোক রোগীদের ১০-৩০ শতাংশই তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক। প্রায় ২৫ শতাংশ স্ট্রোক ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ঘটে।
পরিসংখ্যান কী বলছে
ভারতে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার প্রতি ১ লক্ষে প্রায় ৪৬ জন, যা পশ্চিমী দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি।
স্ট্রোকের মূল কারণ
চিকিৎসকের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোকের প্রধান কারণ হলো—
অলস জীবনযাত্রা ও ভুল খাদ্যাভ্যাস: জাঙ্ক ফুড, শরীরচর্চার অভাব ও স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন: এগুলো রক্ত ঘন করে তোলে, রক্তজমাট বাঁধায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও ঘুমের অভাব: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ক্ষতি ঘটায়।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
মুখের একদিক ঝুলে যাওয়া, হাতের দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা— এগুলো স্ট্রোকের বড়সড় লক্ষণ। সঙ্গে থাকতে পারে বমি, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, খিঁচুনি বা মাথাব্যথা।
মনে রাখবেন, স্ট্রোক একটি মেডিকেল এমার্জেন্সি, এবং “গোল্ডেন আওয়ার” (সাড়ে চার ঘণ্টা)-এর মধ্যে চিকিৎসা পেলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
কেন অল্পবয়সীদের মৃত্যুহার বেশি
তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের জটিলতা দ্রুত বাড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্থায়ী অক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা মস্তিষ্কের ফোলাভাবের ঝুঁকি থাকে।
প্রতিরোধের উপায়
১. প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করুন।
২. ধূমপান, মদ্যপান ও মাদক সেবন বন্ধ করুন।
৩. যোগা বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।
৪. নিয়মিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও সুগার পরীক্ষা করুন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্ট্রোক এখন আর শুধু বৃদ্ধদের সমস্যা নয় — তাই সচেতন থাকাই একমাত্র পথ।
#Stroke #HealthAlert #YoungAdults #Lifestyle #BrainAttack #HealthyLiving #MedicalNews #IndiaHealth