ভারতীয় সমাজে শ্বশুরবাড়িতে জামাই আপ্যায়ন এক প্রাচীন ও সম্মানজনক রীতি। বিশেষ উৎসব বা পার্বণে নতুন জামাইকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে খাওয়ানোর চল বহুদিনের। তবে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার তেনালিতে যে ঘটনা সামনে এসেছে, তা সেই পরম্পরাকেই যেন নতুন মাত্রা দিল।
এক বছর আগে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর এই প্রথম মকরসংক্রান্তি পালন উপলক্ষে মেয়ে ও জামাইকে শ্বশুরবাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংক্রান্তি উপলক্ষে নতুন জামাইকে আপ্যায়নের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাননি শ্বশুর-শাশুড়ি। তাই আয়োজন করা হয় এক অনন্য মহাভোজের—যেখানে সাজানো হয় ১৫৮ রকমের পদ।
এই বিশাল আয়োজনে অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নার সমস্ত স্বাদ ও বৈচিত্র্য যেন একসঙ্গে তুলে ধরা হয়। পদের বাহার দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। ঘি ভাত দিয়ে শুরু হয় ভোজ, তারপর একে একে পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের নিরামিষ ও ঐতিহ্যবাহী সংক্রান্তির পদ। শুধু সাজিয়ে রাখাই নয়, শ্বশুর-শাশুড়ি নিজের হাতে কয়েকটি পদ জামাইকে খাইয়েও দেন—যা এই আপ্যায়নকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
এই বিশেষ দিনে শুধু জামাই নয়, মেয়েকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে খাওয়ানো হয়। একসঙ্গে বসে নবদম্পতিকে খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সেই মুহূর্তে তাঁদের মুখে ছিল খুশির হাসি। মেয়েও স্নেহভরে তাঁর স্বামীকে খাইয়ে দেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
১৫৮ পদের এই সংক্রান্তি মহাভোজ শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আয়োজনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশজুড়ে মানুষ এই ব্যতিক্রমী জামাই আদর দেখে অবাক ও মুগ্ধ হন। বহু সংবাদমাধ্যমেও এই খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে অন্ধ্রপ্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আতিথেয়তা এবং পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা নতুন করে উঠে আসে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, আধুনিক সময়েও ভারতীয় পারিবারিক মূল্যবোধ ও উৎসবের আনন্দ কতটা গভীরভাবে মানুষের জীবনে জড়িয়ে আছে। সত্যিই, একেই বলে জামাই আদর—যা শুধু পদের সংখ্যায় নয়, ভালোবাসা আর সম্মানেই অনন্য।