অনেকেই শরীরের সাধারণ যত্ন নিলেও নাক, কান ও গলার স্বাস্থ্যকে ততটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই ভবিষ্যতে নানা জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা কমানো সম্ভব।
নাক-কান-গলার রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এক অভিজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি নিজেও প্রতিদিন রাতে কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন। তাঁর মতে, এই সহজ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে এগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে সেই তিনটি অভ্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
১. অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার এড়ানো
অনেকেই প্রতিদিন পারফিউম, ডিওডোর্যান্ট বা সুগন্ধি পাউডার ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য সব সময় ভালো নাও হতে পারে। বেশিরভাগ সুগন্ধি পণ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান, অ্যালকোহল ও কৃত্রিম গন্ধ থাকে। এগুলি কখনও কখনও ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যাজমার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পণ্য সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। সম্পূর্ণ বন্ধ করার দরকার নেই, তবে মৃদু গন্ধযুক্ত বা কম রাসায়নিকযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়াও ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
২. নাকের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নাকের ভেতর অতিরিক্ত শুষ্কতা থাকলে তা নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। শুষ্ক নাকের কারণে জ্বালা, অস্বস্তি, এমনকি কখনও কখনও নাক থেকে রক্ত পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। শীতের সময় বা এয়ার কন্ডিশনার চালু ঘরে ঘুমোলে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।
এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ নাকের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন। সাধারণত লবণাক্ত জলের স্প্রে (saline spray) ব্যবহার করলে নাকের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শ্বাস নেওয়াও স্বস্তিদায়ক হয়। তবে তেল বা অন্য কোনও পদার্থ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ সেগুলি সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে।Continue Reading
৩. ঘুমের আগে মুখ পরিষ্কার করার অভ্যাস
দিনের শেষে দাঁত ব্রাশ করা অনেকেরই অভ্যাস, কিন্তু অনেকেই ফ্লস করা বা কুলকুচি করার বিষয়টি এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, রাতে ঘুমের সময় লালার পরিমাণ কমে যায়। ফলে মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে।
এই কারণেই ঘুমোতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লস করা এবং গার্গল করার অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে দাঁতের ক্ষয়, মুখের দুর্গন্ধ, মাড়ির সমস্যা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। শুধু দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও এই অভ্যাস ভূমিকা রাখে।Continue Reading
ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
নাক, কান ও গলার স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সবসময় বড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় নিয়মিত যত্নই বড় সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কয়েকটি সহজ নিয়ম যোগ করলে শরীর অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। তাই রাতের এই তিনটি সহজ অভ্যাস অনেকের জন্যই উপকারী হতে পারে।Continue Reading

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.