ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কোন খাবার একেবারেই খাবেন না? জানুন বিস্তারিত তালিকা

বর্তমানে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা একটি সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলেই পায়ের আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুর জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত বা গাউটের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খাদ্যাভ্যাস। আমাদের খাবারে থাকা ‘পিউরিন’ নামক উপাদান ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

১. রেড মিট ও অর্গান মিট
খাসির মাংস, গরুর মাংসের মতো রেড মিটে প্রচুর পিউরিন থাকে। পাশাপাশি পশুর কলিজা, মগজ, কিডনি জাতীয় অর্গান মিট ইউরিক অ্যাসিড দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবার জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।

২. সামুদ্রিক মাছ ও কিছু বিশেষ মাছ
ইলিশ, চিংড়ি, সার্ডিন, ম্যাকেরেল, টুনা—এই মাছগুলোতে পিউরিনের মাত্রা বেশি। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে নিয়মিত এসব মাছ খাওয়া বিপজ্জনক। পরিবর্তে মাঝেমধ্যে রুই, কাতলা বা ছোট নদীর মাছ সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

৩. চিনিযুক্ত পানীয় ও ফ্রুক্টোজ
সোডা, কোল্ড ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং প্যাকেটজাত ফলের রসে থাকা ফ্রুক্টোজ শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরির গতি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া মিষ্টি, চা বা কফিও এড়িয়ে চলা উচিত।

৪. কিছু সবজি ও ডাল
পালং শাক, পুঁই শাক, ফুলকপি, মাশরুমে মাঝারি মাত্রায় পিউরিন থাকে। একইভাবে মুসুর ডাল বা বিউলির ডাল অতিরিক্ত খেলে ব্যথা বাড়তে পারে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ।

৫. অ্যালকোহল ও ধূমপান
বিশেষ করে বিয়ার ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অ্যালকোহল কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বেরোতে পারে না এবং তা জয়েন্টে জমে যায়।

ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কী খাবেন?

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত জল পান সবচেয়ে জরুরি। দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার জল খেলে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায়।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, আমলকী, কমলা ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। কলা ও চেরি ফল জয়েন্টের ব্যথা কমাতে উপকারী বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউরিক অ্যাসিড কোনো স্থায়ী রোগ নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক