সকাল মানেই অ্যালার্মের শব্দ, তাড়াহুড়ো করে স্নান-খাওয়া, অফিসের ট্রেন বা বাস ধরার দৌড়— আধুনিক কর্মজীবনের এই চেনা চক্রেই বাঁধা পড়ে আছে শহুরে জীবনের বেশির ভাগ মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সেই অভ্যাস ভাঙে না। অথচ মনে মনে অনেকেরই ইচ্ছে— এমন এক সকাল, যেখানে ঘুম ভাঙবে নিজের ইচ্ছেয়, কোনও তাড়া নেই, কোনও দায়িত্ব নেই।
এত দিন পর্যন্ত এমন নির্ভার জীবনের স্বপ্নকে অবসরজীবনের সঙ্গে জুড়ে দেখা হত, যার বয়সসীমা ধরা হত ৬০ বছর। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। এখন আর অবসরের জন্য ষাটে পৌঁছনোর অপেক্ষা করতে চাইছেন না জেন জ়ি প্রজন্ম। কর্মসংস্কৃতির লাগাতার চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা, কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা— সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। ‘বার্নআউট’, উদ্বেগ, একাকিত্ব এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই নতুন এক ধারণা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে— জেন জ়ি রিটায়ারমেন্ট হাউস। মালয়েশিয়ায় পাহাড়ঘেরা আট একর জমিতে গড়ে উঠেছে এমনই এক অবসর আবাস, যা মূলত কমবয়সিদের জন্য। এখানে কোনও বহুতল আবাসন নয়, রয়েছে ছোট ছোট কটেজ। প্রতিটি কটেজই এক একটি নিভৃত আশ্রয়— যেখানে নেই কোনও হুকুম, নেই সময়ের বাঁধন, নেই সামাজিক দায়বদ্ধতার চাপ।
এই অবসর আবাসে থাকলে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটানো যাবে নিজের মতো করে। ইচ্ছে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুম, আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা, বই পড়া বা একেবারে কিছু না করেই সময় কাটানো— সবই সম্ভব। রান্নাবান্নার ঝামেলাও নেই। দিনে তিন বেলা খাবার নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাবে, তাও কোনও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ছাড়াই। প্রয়োজন হলে মিলবে চিকিৎসা পরিষেবাও। এমনকি পোষ্য কুকুর বা বিড়াল রাখার অনুমতিও রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে একটি কটেজ এক মাসের জন্য ভাড়া নিতে খরচ পড়ছে প্রায় ২০০০ মালয়েশিয়ান মুদ্রা, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪৬ হাজার টাকা। মাথার উপর ছাদ, খাবার ও নিরিবিলি পরিবেশ— সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই এই খরচকে ‘মানসিক সুস্থতার বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পোরেট দুনিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই সাবাটিকাল নিচ্ছেন, কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কিছুদিনের জন্য কর্মজীবন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন। সেই অস্থায়ী অবসর কাটানোর জন্যই এমন ‘রিটায়ারমেন্ট হাউস’ নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
৬০ নয়, ২৫-এই অবসর— এই ভাবনাই হয়তো আগামী দিনে কাজ ও জীবনের সংজ্ঞাকে নতুনভাবে লিখে দেবে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.