কাশী বিশ্বনাথের রক্ষাকর্তা এবং দেবাদিদেব মহাদেবের রুদ্র অবতার—ভগবান কাল ভৈরব। তান্ত্রিক সাধনা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের বিশ্বাসে তিনি এক অত্যন্ত জাগ্রত দেবতা। জ্যোতিষশাস্ত্রে তাঁকে ‘সময়ের অধিপতি’ ও ‘দণ্ডপাণি’ বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর আরাধনা এবং বিশেষ করে ভৈরব স্তুতি পাঠ মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে—এমনকি বদলে দিতে পারে ভাগ্যলিপিও।
ভৈরব স্তুতি আসলে কী?
ভৈরব স্তুতি, যা ‘কাল ভৈরব অষ্টকম্’ নামেও পরিচিত, আদি গুরু শঙ্করাচার্য রচিত এক শক্তিশালী স্তোত্র। আটটি শ্লোকে রচিত এই অষ্টকমে ভগবান ভৈরবের রুদ্র রূপ, তাঁর বাহন কুকুর এবং অমিত ক্ষমতার বর্ণনা রয়েছে। শব্দব্রহ্মে গঠিত এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে ভক্ত নিজের অন্তরের ভয়, অলসতা ও অহংকার ত্যাগ করে এক গভীর আধ্যাত্মিক শক্তির সংস্পর্শে আসেন।
কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে ভৈরব স্তুতি?
ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনে ভৈরব স্তুতিকে এক শক্তিশালী ইতিবাচক শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হয়। নিয়মিত পাঠে জীবনের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়—
১. শত্রু ও বাধা নাশ:
অহেতুক শত্রুতা, ষড়যন্ত্র বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ভৈরব স্তুতিকে এক অব্যর্থ ঢাল বলে মনে করা হয়।
২. ভয় ও দুশ্চিন্তা দূরীকরণ:
যারা অজানা আশঙ্কা, মানসিক চাপ বা দুঃস্বপ্নে ভোগেন, তাঁদের মনে এই স্তুতি পাঠে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জন্মায়।
৩. আর্থিক উন্নতি ও কর্মসাফল্য:
ভগবান ভৈরব ‘ক্ষেত্রপাল’ হিসেবে পরিচিত। আর্থিক টানাপোড়েন, ব্যবসায় বাধা বা কর্মক্ষেত্রের জটিলতা কাটাতে তাঁর আরাধনা ফলদায়ক বলে বিশ্বাস।
৪. পাপ ও কর্মফল মোচন:
কাশীর বিশ্বাস অনুযায়ী, ভৈরব স্তুতি পাঠ করলে পূর্বজন্মের কঠিন কর্মফল ও নেতিবাচক প্রভাব থেকেও মুক্তি মিলতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে ভৈরব স্তুতির গুরুত্ব
জ্যোতিষ মতে, কাল ভৈরব শনি ও রাহু গ্রহের নিয়ন্ত্রক দেবতা।
শনির সাড়ে সাতি ও ধাইয়া: শনির কঠিন দশায় ভৈরব স্তুতি এক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
রাহু দোষ: হঠাৎ বিপর্যয়, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা দূর করতে ভৈরব আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
কালাষ্টমী তিথি: কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে এই স্তুতি পাঠ করলে গ্রহদোষ দ্রুত প্রশমিত হয় বলে বিশ্বাস।
ভৈরব স্তুতি পাঠের সঠিক নিয়ম
সময়: ব্রাহ্ম মুহূর্তে অথবা সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যাবেলা।
পদ্ধতি: সরষের তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে ভগবান ভৈরবের সামনে শান্ত মনে স্তুতি পাঠ।
উপহার: পাঠ শেষে কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা বিস্কুট খাওয়ালে ভৈরব অত্যন্ত প্রীত হন বলে মনে করা হয়।
ভক্তদের বিশ্বাসে, ভৈরব স্তুতি শুধু এক ধর্মীয় পাঠ নয়—এটি সাহস, সুরক্ষা ও আত্মশক্তি জাগ্রত করার এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা, যা জীবনের অন্ধকার সময়ে আলোর পথ দেখাতে সক্ষম।
Disclaimer: ভৈরব স্তুতি পাঠ করার পূর্বে, একজন সৎ গুরুর থেকে নিয়ম বিধি সঠিক ভাবে জেনে নেবেন। উপরে উল্লেখিত তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও সাধারণ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশ্য লেখা। ভৈরব স্তুতি পাঠের সঠিক নিয়ম বিধি সংবাদ ভবন নিশ্চিত করে না। মনে ভক্তি না থাকলে, পাপ কর্মে লিপ্ত থাকলে এর থেকে দূরে থাকাই উত্তম। অন্যথা হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।