বাস্তুশাস্ত্রে রান্নাঘরকে ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির একটি বলে মনে করা হয়। কারণ, এই জায়গা থেকেই পরিবারের অন্নসংস্থান হয় এবং এখান থেকেই সারা বাড়িতে শক্তির প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বাস করা হয়, রান্নাঘর যত পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক শক্তিতে ভরপুর হবে, ততই দেবী অন্নপূর্ণার কৃপা সংসারের উপর বজায় থাকবে। তবে রান্নাঘরে কিছু ভুল অভ্যাস বা অশুভ জিনিস থাকলে সেই কৃপা দূরে সরে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা, শান্তি ও উন্নতির উপর।
বাসি খাবার রাখলে থামে সৌভাগ্য
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী রান্নাঘরে বাসি খাবার জমিয়ে রাখা অত্যন্ত অশুভ। বিশেষ করে আগের দিনের রুটি, ভাত বা রান্না করা খাবার দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে তা নেতিবাচক শক্তি ছড়ায়। শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, বাসি খাবার দারিদ্র্য ও অশান্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ পেতে হলে প্রতিদিন রান্নাঘর বাসি খাবারমুক্ত রাখা জরুরি।
মরচে ধরা সরঞ্জাম ডেকে আনে অশান্তি
রান্নাঘরে ব্যবহৃত ছুরি, কাঁচি কিংবা অন্যান্য লোহার সরঞ্জামে মরচে ধরা থাকলে তা অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। বাস্তুমতে, মরচে ধরা জিনিস নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ঘরে শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ী হতে দেয় না। পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। তাই এমন সরঞ্জাম দ্রুত বদলে ফেলা উচিত।
আবর্জনা জমলে রুষ্ট হন দেবী অন্নপূর্ণা
পরিচ্ছন্নতাকে দেবী অন্নপূর্ণার অন্যতম প্রধান পছন্দ বলে মনে করা হয়। রান্নাঘরে ময়লা, উচ্ছিষ্ট বা আবর্জনা জমে থাকলে তা অত্যন্ত অশুভ। রাতের খাবারের পর রান্নাঘর পরিষ্কার না করে শুতে যাওয়া সংসারের জন্য শুভ নয় বলে বিশ্বাস। পরিষ্কার রান্নাঘর ঘরে ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখে এবং আর্থিক কষ্ট ও মানসিক অশান্তি দূরে রাখে।
ভাঙা বা ফাটা বাসনপত্রের নেতিবাচক প্রভাব
রান্নাঘরে ভাঙা থালা, ফাটা গ্লাস বা চিড় ধরা বাসন রাখা বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী দারিদ্র্যের লক্ষণ। এর ফলে সংসারে ঋণ, আর্থিক চাপ ও অপ্রত্যাশিত খরচ বাড়তে পারে। তাই এমন বাসনপত্র দেরি না করে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
সব মিলিয়ে বাস্তুশাস্ত্র বলছে, রান্নাঘর যত পরিষ্কার, গোছানো ও শুদ্ধ থাকবে, ততই দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ বজায় থাকবে। এর ফলেই সংসারে আসবে সুখ, শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি। রান্নাঘরের ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই বদলে যেতে পারে গোটা পরিবারের ভাগ্য।