ধুমধাম করে বিয়ে, মোটা অঙ্কের পণ, সোনাদানা আর আসবাবপত্রে ভরিয়ে দেওয়া নতুন সংসার—সবটাই যেন এক বিলাসবহুল ভবিষ্যতের আশায়। বিদেশে চাকরি করা পাত্র, ডলারে রোজগার, স্বচ্ছল জীবনের প্রতিশ্রুতি—এই স্বপ্নই বহু ভারতীয় পরিবারের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই স্বপ্নই অনেক সময় পরিণত হচ্ছে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে।
বিশেষ করে Punjab ও Haryana-সহ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে NRI পাত্রের সঙ্গে বিয়ের প্রবণতা বহুদিনের। বহু যুবক কাজের সূত্রে Canada, United States কিংবা ইউরোপের নানা দেশে পাড়ি জমান। দেশে ফিরে নিজেদের উচ্চ আয়ের চাকরি ও বিলাসবহুল জীবনের ছবি তুলে ধরে সহজেই পাত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
মনপ্রীতের গল্প, হাজারো নারীর বাস্তব
২০০৮ সালে পাঞ্জাবের মনপ্রীত কৌরের (নাম পরিবর্তিত) বিয়ে হয় জার্মানিপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে। বিয়েতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা পণ, সোনাদানা ও আসবাবপত্র দেন তাঁর বাবা—সবটাই ঋণ করে। পাত্র জার্মানির Hamburg শহরে একটি রেস্তরাঁয় কাজ করতেন। পরিবারের আশা ছিল, মেয়ের জীবন হবে নিরাপদ ও স্বচ্ছল।
কিন্তু বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী একাই কর্মস্থলে ফিরে যান। প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে যাবেন। মাস গড়িয়ে বছর কেটে যায়, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। পরে জানা যায়, বিদেশে তাঁর আরও একটি সংসার রয়েছে এবং দুই সন্তানও আছে।
মনপ্রীত আইনি লড়াই শুরু করলেও বিদেশে থাকা স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে স্বামী জীবিত থাকলেও বাস্তবে তিনি পরিত্যক্তা—এক ধরনের ‘বিধবার’ জীবনযাপন করতে বাধ্য।
ভয়ংকর পরিসংখ্যান
২০১৮ সালে এক মামলায় Supreme Court of India জানায়, ভারতে প্রায় ৪০ হাজার নারী এই ধরনের NRI বিবাহ প্রতারণার শিকার। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, চার বছরে প্রায় ৬ হাজার মামলা দায়ের হয়েছে প্রতারক NRI স্বামীদের বিরুদ্ধে।
এই সংখ্যাগুলি কেবল নথিভুক্ত মামলার হিসাব। বাস্তবে আরও বহু নারী সামাজিক লজ্জা, আর্থিক অসুবিধা ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ দায়েরই করেন না।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
সমাজে এখনও বিদেশে স্থায়ী হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। অনেক বাবা-মা মনে করেন, বিদেশি জামাই মানেই মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাত্রের আর্থিক অবস্থা, বৈবাহিক ইতিহাস বা আইনি অবস্থান সম্পর্কে যথাযথ খোঁজ নেওয়া হয় না। পণের চাপও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নেটওয়ার্ক অফ ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক (NIJN)’-এর প্রতিষ্ঠাতা মমতা আচান্তা জানিয়েছেন, বিদেশি বা NRI পাত্র খোঁজায় ভুল নেই, কিন্তু বিয়ের আগে পূর্ণ যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের ভারতীয় দূতাবাসের সাহায্য নেওয়া উচিত। পাত্রের পেশা, ভিসা স্ট্যাটাস, বৈবাহিক অবস্থা ও পরিবার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক।
সমাধানের পথ কোথায়?
আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি—এই তিন দিকেই জোর দিতে হবে। পাশাপাশি পণপ্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও জরুরি।
বিদেশে সুখের জীবনের মোহে নয়, বাস্তব যাচাইয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত—এই বার্তাই এখন সময়ের দাবি। নইলে স্বামী জীবিত থাকলেও হাজার হাজার নারীকে কাটাতে হবে এক নিঃসঙ্গ, অনিশ্চিত জীবন।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.