ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী Rahul Arunoday Banerjee-র আকস্মিক প্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারেননি অভিনেত্রী Priyanka Sarkar। এক মাস পেরিয়ে গেলেও শোকের সেই ধাক্কা এখনও তীব্রভাবে অনুভব করছেন তিনি। নিজের ভাষায়, “সবটা এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে”—কখনও নিজেকে কাজে ব্যস্ত রেখে, কখনও একা থেকে, কখনও আবার ভেঙে পড়ে—এইভাবেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রিয়াঙ্কা জানান, প্রত্যেক মানুষ আলাদা ভাবে শোক সামলায়, আর তিনি নিজের প্রতিটি অনুভূতিকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনও রাগ, কখনও নিঃসঙ্গতা, কখনও কথোপকথন—এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগোচ্ছেন তিনি। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠেছে কাজ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তিনি নিজেকে সবচেয়ে স্বাভাবিক ও সত্য বলে মনে করেন। তাই কঠিন সময়েও অভিনয়ে ফিরে আসা তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এই সময়টায় পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের সমর্থন তাঁকে অনেকটা শক্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বুঝে কাজের ক্ষেত্রে সময় দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আসন্ন কাজগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কুহেলি’, যার মুক্তি নির্ধারিত ১৫ মে। ছবিতে তিনি একজন তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে থ্রিলের সঙ্গে রয়েছে হালকা কমেডির ছোঁয়াও।
পরিচালক Aditi Roy-এর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, এই পরিচালকের উপর সহজেই ভরসা করা যায়, যা অভিনেতা হিসেবে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ‘কুহেলি’-র শুটিং হয়েছে পাহাড়ি পরিবেশে, যেখানে একটি রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তকে ঘিরে এগোয় গল্প।

অন্যদিকে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের জায়গা শক্ত করেছেন প্রিয়াঙ্কা। ‘হ্যালো’, ‘ছোটলোক’, ‘লজ্জা’-র মতো সিরিজে অভিনয়ের পর তিনি আরও নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করছেন। সামনে রয়েছে ‘তারকাটা’, ‘মায়া সত্য ভ্রম’ এবং ‘বৃত্ত রহস্য’-র মতো প্রজেক্ট।
তবে এই পেশাগত সাফল্যের মাঝেও ব্যক্তিগত ক্ষতটা গভীর। রাহুলের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল দুই দশকেরও বেশি সময়ের। সেই সম্পর্ক নানা ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে গেলেও বন্ধুত্ব অটুট ছিল। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি।” তাঁর মতে, রাহুলের মতামত তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল—যা এখন আর পাওয়া যাবে না, সেটাই সবচেয়ে বড় শূন্যতা।
রাহুলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিও এখনও তাজা—একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। সেই অসম্পূর্ণ পরিকল্পনাই এখন যেন আরও বেশি কষ্ট দেয়।
এই কঠিন সময়ে তাঁর ছেলে Sahaj Banerjee-ও নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। প্রিয়াঙ্কা জানান, তিনি ছেলেকে কোনও চাপ দিচ্ছেন না, শুধু যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছেন। বরং দু’জনেই একে অপরকে শক্তি দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, গভীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তাঁর কথায়, চারপাশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.