পথকুকুরদের নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিশেষ করে Supreme Court of India-এর তরফে কখনও কখনও পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তবে এমনই এক সময়ে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার এক ছোট গ্রাম দেখিয়ে দিল—এই প্রাণীরাই কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় রক্ষাকর্তা হতে পারে।
ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত ধীরাকুলা গ্রামের একটি পথকুকুর ‘কালী’ এখন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে তার অসাধারণ সাহসিকতার জন্য। যদিও সে আর বেঁচে নেই, তবুও তার আত্মত্যাগের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। গ্রামের শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যামন্দিরের সামনে ৩০ জনেরও বেশি ছোট ছাত্রছাত্রী বসে ছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ বিদ্যালয়ের খুব কাছে চলে আসে। পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, কিন্তু উপস্থিত কেউ প্রথমে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি।
এই সময়েই কালী বিপদ টের পায়। কোনও দ্বিধা না করে সে ছুটে গিয়ে শিশুদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। সাপটি বারবার আক্রমণের চেষ্টা করলেও কালী পিছু হটেনি। বরং সাহসিকতার সঙ্গে একটানা লড়াই চালিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত কালী সাপটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেই লড়াইয়ের মাঝেই সাপটি তাকে কামড়ে দেয়। মারাত্মক বিষক্রিয়ায় পরে কালী প্রাণ হারায়। তার শরীরে গুরুতর আঘাত ছিল, কিন্তু ততক্ষণে সে নিজের দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে—একটিও শিশুর গায়ে আঁচড় লাগেনি।
এই ঘটনার পর গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাধারণ পথকুকুর হিসেবে কালীর মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি গ্রামবাসীরা। তারা তাকে পরিবারের সদস্যের মতো সম্মান জানিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন, যা সাধারণত মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাকে।
কালীর এই আত্মত্যাগ শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়—এটি মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্কের এক গভীর দৃষ্টান্ত, যেখানে ভয় নয়, বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.