Swastika: মুম্বইয়ের স্মৃতিচারণায় লম্বা পোস্ট অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জির (Swastika)। ইতিমধ্যেই সকলে জানেন এই শিল্পী অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্ট কথা বলার জন্যেই পরিচিত। নিজের অনুভূতিকে খুব যত্ন করে শব্দের আকার দেন তিনি। সেরকমই দিয়েছেন সম্প্রতি। নিজের ও পোষ্যের একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন।
সাথে লেখেন, ‘মুম্বইতে কাটানো একটা বিকেল। কী সুন্দর। সন্ধ্যা নামার আগে সাবিত্রী এসে গা এলিয়ে শুয়ে জানালার বাইরে কী দেখছিল কে জানে ?! সূর্যাস্ত দেখতে আমার বরাবরি ভালো লাগে। আসলে ‘ভালো লাগে’ – এটা ঠিক বলা যায় কি না জানিনা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে মন কেমনের একটা নিবিড় বন্ধন আছে। সেই মন কেমন ভালো লাগার মন কেমন। মন খারাপের মন কেমন নয়।
আমি যখন ক্লাস ৬ এ পড়ি তখন থেকে আমাদের পরিবারে ছানাপোনারা আছে। বাড়ির পোষ্য হোক বা রাস্তার কাল্টু, গায়ে পড়তে ওরা সবাই ভালোবাসে। কিন্তু সাবিত্রী এই ব্যাপারে সবার চেয়ে আলাদা। আমি বারান্দায় বসে আকাশ দেখলে আমার পাশে বসে আকাশ দেখত, পড়ন্ত বিকেলে বসে মেঘ জমছে দেখলে আমার ঘাড়ে মাথা দিয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমি গাছের কাছে গিয়ে বসলে আমার পাশে এসে চুপটি করে আমার কোলে মাথা রেখে গাছের গন্ধ শুঁকতো।
ওদের মনেও কত এলো মেলো অনুভূতি আশা যাওয়া করে তা ঠাহর করা মুশকিল। মা বলত – বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। তাই বিশ্বাস করি, মানুষের মতন ওদেরও মন আছে, ওরা সব বোঝে, শুধু ব্যক্ত করার ভাষা আলাদা। ওদের চোখে কত মায়া, আহারে, একটু তাকিয়ে দেখলেই পড়ে নেওয়া যায়। শুধু বোঝার ইচ্ছেটুকু থাকতে হবে। ইচ্ছেটুকুই তো সব তাই না ?
কয়েকটা বছরের জন্য আসে আমাদের কাছে, কত কিছু শিখিয়ে যায়, শুধু দেয়, ভালোবাসা ছাড়া নেয়েনা কিছুই। সুন্দর একটা জানালা ছিল, অপরূপ আলো ছিল, কাকলিদির জামাকাপড় ছিল, দারুণ ফটোগ্রাফার এর টিম ছিল, সর্বোপরি সাবিত্রী সোনা মেয়ে ছিল। ছবি গুলো থাকুক। সাবিত্রী ও থাকুক, আমার আপন হয়ে। এত রোশনাই, এত ঝলমলে আলো তো ওদেরই দেওয়া, আমরা ধার নিয়ে বেঁচে আছি শুধু। বম্বে, আগস্ট, ২০২৫।’

Hello, I am Sudeshna. I have been working in blogging for more than five years.