পপ সঙ্গীতের ইতিহাসে Michael Jackson এক অনন্য নাম। গত শতকের শেষভাগ থেকে একবিংশ শতকের শুরু পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রজন্মের আইকন। সেই কিংবদন্তির জীবন নিয়েই তৈরি হয়েছে বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘মাইকেল’।
তবে এই ছবিকে ঘিরে যতটা প্রত্যাশা ছিল, ততটাই প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, নির্মাতারা সচেতনভাবেই মাইকেলের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়—বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিযোগের বিষয়গুলো—এড়িয়ে গেছেন। ছবিটি বরং ফোকাস করেছে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং শিল্পীসত্তার উপর।
পরিচালক Antoine Fuqua ছবিতে তুলে ধরেছেন এক সংগ্রামী শিল্পীর গল্প। শৈশব থেকেই বাবার কঠোর শাসনে বেড়ে ওঠা মাইকেল, যাঁর বাবা Joseph Jackson ‘জ্যাকসন ফাইভ’ গড়ে তুলেছিলেন, সেই ব্যান্ড থেকেই তাঁর উত্থান। বর্ণবিদ্বেষের সময়ে একটি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের সাফল্য সহজ ছিল না, কিন্তু প্রতিভার জোরে সেই বাধা অতিক্রম করেছিলেন তিনি।
ছবির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি—বিশেষ করে ‘Thriller’, ‘Bad’ এবং ‘Rock with You’-এর মতো জনপ্রিয় কাজগুলির উপস্থাপনা। এই গানগুলির দৃশ্যায়ন দর্শকদের নস্ট্যালজিক করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁরই ভাইপো Jaafar Jackson। তাঁর অভিনয়ে মাইকেলের গানের স্টাইল, নাচের ভঙ্গি এবং মঞ্চ উপস্থিতি যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, জোসেফ জ্যাকসনের চরিত্রে Colman Domingo-র অভিনয় ছবিতে গভীরতা যোগ করেছে।
ছবিতে মাইকেলের ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতাও গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, পেশাগত নিয়ন্ত্রণ এবং একাকীত্ব—এই সবই তাঁর জীবনের এক অদেখা দিক তুলে ধরে। সেই শূন্যতা পূরণ করতে তাঁর জীবনে পোষ্য প্রাণীদের উপস্থিতিও দেখানো হয়েছে।
চলচ্চিত্রের শেষ অংশে লন্ডনের Wembley Stadium-এ অনুষ্ঠিত তাঁর একটি ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স দেখানো হয়েছে, যেখানে তাঁর বিখ্যাত ‘মুনওয়াক’ আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করে। শেষ দৃশ্যে একটি বার্তা রাখা হয়েছে—“Michael Jackson continues…”—যা ভবিষ্যতে সিক্যুয়েলের ইঙ্গিত হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ছবির প্রযোজনায় যুক্ত ছিল জ্যাকসন পরিবার এবং তাঁর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার John Branca। ফলে ছবিতে একটি শ্রদ্ধার্ঘ্যের আবহ থাকলেও সমালোচকদের মতে, বাস্তবের কিছু অন্ধকার দিক ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘মাইকেল’ একটি দৃষ্টিনন্দন ও সঙ্গীতনির্ভর বায়োপিক, যা কিংবদন্তি শিল্পীর গৌরবময় দিক তুলে ধরে। তবে তাঁর বিতর্কিত জীবনের সম্পূর্ণ ছবি দেখতে চাইলে হয়তো দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে সম্ভাব্য সিক্যুয়েলের জন্য।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.