হাওড়ার উদয়নরায়ণপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন এক প্রবীণ ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ঘটনাটি ঘিরে শাসকদল এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিশনের দাবি, ওই বৃদ্ধ ভোটার—পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮২)—নিজের পুত্রের সঙ্গে ভোট দিতে বুথে প্রবেশ করেছিলেন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাঁর ছেলেকে তাঁকে সাহায্য করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, আঙুলে কালি লাগানোর পর তিনি লাঠির ভর দিয়ে ধীরে ধীরে ইভিএমের দিকে এগিয়ে যান। কিছু সময় পর তিনি অসুবিধায় পড়ছেন বুঝে তাঁর পুত্র এগিয়ে আসেন এবং ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেন। এরপর হঠাৎই ইভিএমের সামনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কর্মী এবং তাঁর ছেলে দ্রুত তাঁকে বাইরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবল গরম ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনওরকম ধাক্কা বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকের কথায়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানরা শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কাজ করছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পুত্রকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, যার জেরেই তিনি পড়ে যান এবং পরে মারা যান।
তিনি এই ঘটনাকে ২০২১ সালের Sitalkuchi firing-এর সঙ্গে তুলনা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন।
তবে কমিশন তাঁর এই অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানায়, ঘটনার সঙ্গে কোনওরকম জোরজবরদস্তির সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক না বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বলেছে, এতে মৃতের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকলেও, সামনে আসা ভিডিও ও সরকারি বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.