ভারতের অন্যতম আধুনিক সেমি-হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবার দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের রেলপথেও চলতে পারে। ভারতীয় রেল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই ট্রেনকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ স্বল্প খরচে আধুনিক রেল পরিষেবা গড়ে তুলতে আগ্রহী হওয়ায় বন্দে ভারত ট্রেনের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
একসময় আধুনিক রেল প্রযুক্তির জন্য ভারতকে বিদেশি দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। জাপান, ব্রিটেন কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম আমদানি করা ছিল সাধারণ বিষয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশের ফলে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত ট্রেন তৈরি করছে এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্রের খবর, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পাশাপাশি আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ বন্দে ভারত ট্রেনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এই দেশগুলির অনেকেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুতগতির রেল পরিষেবা চালু করতে চাইছে। সেই কারণেই ভারতীয় মডেলের সেমি-হাইস্পিড ট্রেন তাদের কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী বন্দে ভারতের একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড-গেজ সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে ব্যবহৃত বন্দে ভারত ট্রেন ব্রড-গেজ লাইনের উপযোগী। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে স্ট্যান্ডার্ড-গেজ রেলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে বিদেশে রপ্তানির জন্য নতুন নকশা তৈরি করা হচ্ছে যাতে ট্রেনটি বিভিন্ন দেশের রেল নেটওয়ার্কে সহজেই পরিচালনা করা যায়।
রেল সংস্থা রাইটস লিমিটেডের সহযোগিতায় এই প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বিদেশি অর্ডার পাওয়া গেলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ভারতের রেল শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় তৈরি বন্দে ভারত শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরতে পারে।
ভারতীয় রেলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শত শত বন্দে ভারত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য স্লিপার সংস্করণও চালু করার প্রস্তুতি চলছে। রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে ভারতের রেল শিল্পের আয় ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
বন্দে ভারত রপ্তানির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু ট্রেন নির্মাতা হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক রেল অবকাঠামো ও পরিচালনা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.