লক্ষ্মীবারেও ধস! সেনসেক্স-নিফটির রক্তক্ষরণে কাঁপল বাজার, নেপথ্যে বড় কারণ

দেশীয় শেয়ার বাজারে সপ্তাহের শেষভাগেও নেতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকল। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির চাপ দেখা যায়, যার ফলে প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার খোলার পরই বিএসই সেনসেক্স আগের দিনের তুলনায় নিম্নস্তরে লেনদেন শুরু করে। একইভাবে নিফটি ৫০-ও শুরু থেকেই দুর্বল ছিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ২৩,১০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা আরও বৃদ্ধি পায়।

কেন চাপের মুখে বাজার?
বিশ্ববাজারে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এই আশঙ্কার জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়, পরিবহন খাতের ওপর চাপ পড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), অটোমোবাইল এবং ধাতু (মেটাল) খাতের শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে আইটি সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা সামগ্রিক বাজারকে আরও নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

বাজারের বৃহৎ মূলধনী অনেক কোম্পানির শেয়ারও বিক্রির চাপে পড়ে। ফলে সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে তেল ও গ্যাস খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে।

স্মল ও মিড-ক্যাপেও চাপ
শুধু বড় কোম্পানিই নয়, ছোট ও মাঝারি মূলধনের শেয়ারগুলিতেও বিক্রির প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর মানসিকতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেওয়া বা অবস্থান কমানোর পথ বেছে নিয়েছেন। এর ফলে বাজারের সামগ্রিক মূলধনেও প্রভাব পড়েছে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওপর। যদি উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ভারতীয় শেয়ার বাজারে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা দেখে আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং মৌলিক ভিত্তি মজবুত কোম্পানিগুলোর ওপর নজর রাখা প্রয়োজন। বাজারের সাময়িক সংশোধনকে অনেক সময় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ কৌশল বজায় রাখা এবং অযথা আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক