প্রত্যেক হিন্দুদের কাছে বৃন্দাবন একটি পবিত্র স্থান, এটি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মথুরা জেলায় অবস্থিত। বৃন্দাবনে নিধিবন বলে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে আজও প্রতি রাতে রাধা কৃষ্ণ রাসলীলা করেন।
বৃন্দাবনের এই নিধিবনে নাকি এখনো প্রতি রাতে শ্রীকৃষ্ণ রাধা এবং আরো গোপিদের সাথে রাসলীলা করেন। এই কারনে এই নিধি বনে রাত্রিবেলা কারুর প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবে সন্ধ্যায় সেখানে আরতি করা হয় তারপর নিধিবনের দরজা বন্ধ করা হয়, এই বনে রয়েছে নানান স্মৃতি। এই নিধি বনে রয়েছে প্রচুর তুলসী গাছ, এই তুলসী গাছগুলো সাধারণ তুলসী গাছের থেকে অনেক আলাদা। এই গাছগুলো খুব একটা বেশি লম্বা না হলেও একটা গাছের সাথে আরেকটা গাছের কান্ড জড়িয়ে জোড়া গাছ হয়ে রয়েছে এবং গাছগুলো গোড়া থেকে উঠে গেলেও গাছে সব সময় সবুজ তুলসী পাতা দেখা যায়।
এই নিধিবন নাকি খুবই রহস্যময়!

এই বনের প্রত্যেকটি গাছ নাকি রাত্রিবেলা গোপী বালিকায় রূপান্তরিত হয় এবং তারপরে রাসলীলা হয়। এরপর ভোর হওয়ার ঠিক আগেই গাছগুলো আবার নিজের আসল রূপে ফিরে যায়।
নিধিবনের একটি মন্দির রয়েছে যার নাম রংমহল, জানা যায় এই মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের বস্ত্র পরিধান করেছিলেন রাঁধা। নিধিবনে রাসলীলা করার পরে এই মন্দিরে বিশ্রাম নেন শ্রীকৃষ্ণ সহ রাধা। এই রংমহলে চন্দন কাঠের শয্যা রয়েছে যেখানে রাধা কৃষ্ণ বিশ্রাম নেন।
প্রতিদিন নিধিবনে সন্ধ্যা আরতির পরে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, দরজা বন্ধ করার আগেই রাধা কৃষ্ণের জন্য সজ্জা প্রস্তুত করেন পুরোহিত। সেখানে রাখেন দাঁত মাজার জন্য নিমের ডাল, মিষ্টি পান সুপারি, এক কলসি জল, তুলসী পাতা, বস্ত্র, ফুল ও চুরি। মাঝেমধ্যে সেখানে মাখন চিনিও রেখে আসা হয়। সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে নিধিবনের দরজা তালা দিয়ে দেওয়া হয় এবং পরের দিন সকালে আবার সেই তালা খুলে দেওয়া হয়। সকালবেলা সেই শয্যা দেখে বোঝা যায় যে সেটি ব্যবহার করা। আর সেখানে যেসব খাবার রাখা থাকে সেগুলোও কিছুটা করে খাওয়া থাকে।
এই কারণেই এই নিধিবনের দরজা রাত্রি আটটার সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভোর পাঁচটায় দরজা খুলে দেওয়া হয়। যদি কেউ এই নিধিবনে থাকে তাহলে সে প্রাণ হারায়, নয়তো মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে অথবা অন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ কোন না কোন ভাবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যদি এই নিধিবনে সন্ধ্যার পরে প্রবেশ নিষিদ্ধ তবুও যদি এখানে কেউ প্রবেশ করে তাহলে সে অবশ্যই সেখানে কারোর উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে।
আরও পড়ুন,
*তালের বড়া, ক্ষীর, জন্মাষ্টমীতে এই ১০ ভোগে সন্তুষ্ট হবেন শ্রীকৃষ্ণ

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.