সই জালিয়াতি মামলা ঘিরে নতুন মোড়, অভিষেকের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার সূত্রপাত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন দলেরই প্রবীণ নেতা, সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানির দিন এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আইনজীবীরাও এই মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে নতুন করে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।

মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারীদের ডাকে তাঁকে হাজিরাও দিতে হবে। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর প্রকাশ্যে নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে হননি। তাঁর অভিযোগ, মামলাটি দ্রুত আদালতে তোলার বিষয়ে তিনি উদ্যোগী হলেও পরে তাঁকে না জানিয়ে অন্য আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরেই তিনি ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাদের নিয়ে তারা এগোতে চায়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক ক্ষতি হয়েছে এবং তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসায় সিআইডি ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।

তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট বৈঠক, স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং ওই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুঁজছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে কালীঘাট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টাও করেছে সিআইডি।

উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তদন্ত সংস্থার নোটিস পৌঁছায়। এরপর একাধিকবার তাঁকে হাজিরার জন্য ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি বলে জানা যায়। অবশেষে আদালতের নির্দেশের পর তাঁর ভবানী ভবনে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার কথা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি আইনি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ সামনে আসায় দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। :::

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক