বর্তমান সময়ে চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকের কাছেই বড় উদ্বেগের কারণ। পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন এবং পুষ্টির ঘাটতির মতো একাধিক কারণ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে অনেকেই দামি প্রসাধনী বা বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন।
জনপ্রিয় কেশবিশেষজ্ঞ জাওয়েদ হবীবের মতে, সাধারণ সর্ষের তেলও চুলের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সেটি ব্যবহারের রয়েছে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি। তাঁর দাবি, সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করলে মাথার ত্বকের পরিচর্যা ভালো হয় এবং চুল ভাঙার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি খুশকির সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে এই অভ্যাস।
কীভাবে ব্যবহার করবেন সর্ষের তেল?

জাওয়েদ হবীবের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে মাথা ভিজিয়ে নিতে হবে। তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ শুকনো স্ক্যাল্পে তেল লাগানোর পরিবর্তে হালকা ভেজা অবস্থায় তেল ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
এরপর সিঁথি কেটে অল্প পরিমাণ সর্ষের তেল মাথার ত্বকে লাগাতে হবে। তবে তেল লাগিয়ে জোরে মালিশ করার প্রয়োজন নেই। কয়েক মিনিট তেল রেখে মৃদু শ্যাম্পু বা প্রাকৃতিক ক্লিনজার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
তাঁর মতে, এই অভ্যাস নিয়মিত পালন করলে চুলের ভঙ্গুরতা কমতে পারে এবং মাথার ত্বকও পরিষ্কার থাকে।
সর্ষের তেল কেন উপকারী হতে পারে?
সর্ষের তেলে ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে। এসব উপাদান মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগাতে সহায়ক হতে পারে এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধুমাত্র সর্ষের তেল ব্যবহার করলেই চুল পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে— এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই। তাই এটি সহায়ক পরিচর্যা হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।
এ ছাড়া যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে সর্ষের তেল অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে শরীরের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
চুল ভালো রাখতে আর কী কী প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখাও জরুরি।
যদি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে থাকে, তবে নিজে থেকে বিভিন্ন টোটকার উপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পরিচর্যা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির সমন্বয়ই চুল সুস্থ ও মজবুত রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.