Independence Day 2026: ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে লালকেল্লা। এবছর প্রথমবারের মতো লালকেল্লা থেকে গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। চলতি বছর এই দেশাত্মবোধক গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ‘বন্দে মাতরম’ লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বদলাচ্ছে লালকেল্লার অনুষ্ঠানের রীতি
প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর পরিবেশিত হয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’। তবে এবার অনুষ্ঠানের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। এরপর পরিবেশিত হবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’। ফলে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় স্তোত্র ও জাতীয় সঙ্গীত—দুইয়েরই বিশেষ উপস্থিতি থাকবে।
এবারের থিম ‘যুব শক্তি’
২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের ‘যুব শক্তি’কে। ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরাই এবারের মূল লক্ষ্য। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের অবদানকে সামনে আনা হবে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই ভাবনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন নিয়ম
চলতি বছরই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের বিষয়ে নতুন নিয়মবিধি স্থির করেছে কেন্দ্র। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলগুলিতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পরিবেশনের পর ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকা অনুষ্ঠানে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময়ও এই গান পরিবেশনের নির্দেশ রয়েছে। পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। তবে সিনেমা হলে গানটি বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে।
১৮৭৫ সালে লেখা, ১৮৮২-তে প্রকাশ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন। পরে ১৮৮২ সালে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরিবেশন করেন।
পরবর্তীকালে ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে এই গান। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে যায় ‘বন্দে মাতরম’-এর কথা ও সুর।
চলতি বছর গানটির ১৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা ও ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর পক্ষে সরব বিজেপি। এবার স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানেই লালকেল্লা থেকে প্রথমবার গানটি পরিবেশনের সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.