ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও এক বড় পদক্ষেপ। গুজরাটের ধোলেরায় সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রয়োজনীয় সামগ্রী উৎপাদনের কারখানা গড়ে তুলতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে জাপানের ফুজিফিল্ম। এই কারখানায় উৎপাদিত সামগ্রী ব্যবহার করবে টাটা ইলেকট্রনিক্স।
এই লক্ষ্যে টাটা ইলেকট্রনিক্স ও ফুজিফিল্মের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমানোই এই অংশীদারিত্বের অন্যতম লক্ষ্য।
ফুজিফিল্মের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধোলেরার বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চলে ধাপে ধাপে তৈরি হবে এই কারখানা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে বিনিয়োগের কাজ শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ অর্থবর্ষে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিক সামগ্রী তৈরি করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত আরও উন্নত সামগ্রী ও উচ্চমানের রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
টাটা ইলেকট্রনিক্সের ধোলেরা সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ধোলেরায় প্রায় ৯১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩০০ মিলিমিটার বা ১২ ইঞ্চির সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরি করছে টাটা ইলেকট্রনিক্স। সেখানে ২৮ ন্যানোমিটার থেকে ১১০ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে চিপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চিপগুলি ভবিষ্যতে গাড়ি, কনজ়িউমার ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটিং, তথ্য সংরক্ষণ, বেতার যোগাযোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে।
শুধু টাটা ইলেকট্রনিক্সের কারখানা নয়, ধোলেরাকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। টাটা ইলেকট্রনিক্স ইতিমধ্যেই ধোলেরা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪৫০টি সরবরাহকারী সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। ফলে ফুজিফিল্মের নতুন কারখানা চালু হলে গুজরাটের ধোলেরায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.