‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে দিন যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। গত দু’দিনের পর্ব দেখার পর একাংশ দর্শকের মনে হচ্ছে, ঘরের খেলাটা যেন ক্রমশ ‘রাজবীর বনাম বাকি সবাই’-তে পরিণত হচ্ছে। পারফরম্যান্সের দিক থেকে রাজবীর ভালো খেললেও কেন বারবার তাঁকেই নিশানা করা হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ।
এক দর্শকের মতে, রাজবীরকে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, রাজবীরের সঙ্গে বাকিদের ঠিক কী সমস্যা, তা বোঝা কঠিন। পারফরম্যান্সের বিচারে তিনি যথেষ্ট ভালো খেলছেন। অথচ বারবার তাঁকে ঘিরেই নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে পুরো খেলাটাই অনেকের চোখে রাজবীর বনাম বাকি প্রতিযোগীদের লড়াই হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি খাবার এবং দুধ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও তনুশ্রী ও ভরত কলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই দর্শক। তাঁর বক্তব্য, নিয়মিত শরীরচর্চা করা রাজবীরের প্রোটিনের প্রয়োজন থাকাটা স্বাভাবিক। দুধে টান পড়তে পারে জেনেও তিনি অতিরিক্ত দুধ নিয়েছিলেন ঠিকই, তবে সেটি রাতের দিকে কিছুটা দুধ বেঁচে যাওয়ার পর। তাই বিষয়টি নিয়ে এতটা জলঘোলা করার প্রয়োজন ছিল না বলেই মনে করছেন তিনি।
রাজবীরের সঙ্গে ভাষা নিয়ে কথাবার্তার ধরন নিয়েও আপত্তি রয়েছে ওই দর্শকের। বিশেষ করে ঝিলমের মুখে ‘বাংলা শিখে আয়’ মন্তব্যটি তাঁর কাছে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজবীর নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং ধীরে ধীরে বাংলায় কথা বলারও চেষ্টা করছেন। এমনকী ঘরের অনেক সদস্যের তুলনায় তিনি কম ইংরেজি ব্যবহার করছেন বলেও মনে করেন ওই দর্শক। অন্যদিকে অ্যালেক্সও ভাঙা বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভাষাগত দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে রাজবীরকে বারবার আক্রমণ করা ঠিক নয়।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে রাজবীরকে ইচ্ছা করে রাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে। ওই দর্শকের দাবি, ঘরের সদস্যরা বুঝে গিয়েছেন যে রাজবীর কিছুটা দ্রুত রেগে যান। আর সেই বিষয়টিকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইচ্ছা করে তাঁকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, যাতে তিনি রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন—এমনটাই মনে করছেন ওই দর্শক।
রাজবীরের ‘পুকুরের মাছ পুকুরেই থাকবে’ মন্তব্যের পর ঘরের সদস্যদের একজোট হয়ে তাঁর বিরোধিতা করার বিষয়টিও নজর কেড়েছে দর্শকের। ঝিলমের ‘খেলা যার যার, রাজবীর হারলে আনন্দ সবার’ মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কাউকে আলাদা করে টার্গেট করে এই ধরনের মন্তব্য করা খেলাটিকে অস্বাভাবিক করে তুলছে। শুধু ঝিলম নন, নিরঞ্জন এবং ভরত কলের ভূমিকা নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর দাবি, ঝিলম ও নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত খুব শক্তিশালী পারফরম্যান্স চোখে পড়েনি। বরং তাঁদের বেশি সময় পিএনপিসি করতে দেখা যাচ্ছে বলেই তাঁর মত। ভরত কলের ভূমিকাও তাঁর কাছে অনেকটা নিষ্ক্রিয় বলে মনে হয়েছে।
*১১ বছর পর রাজের প্রযোজনায় মিমি, ‘তাণ্ডব’ ঘিরে চর্চায় শুভশ্রীর প্রতিক্রিয়া
ওই দর্শকের মতে, রাজবীর এবং জিতু কমল ‘বিগ বস বাংলা’-র খেলায় আসার পর থেকেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর আশঙ্কা, আগামী দিনে রাজবীরের পর জিতু কমলও অন্যদের নিশানায় আসতে পারেন। এমনকী পরের সপ্তাহে রাজবীরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নমিনেশন ভোট পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সবশেষে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়দের নামও জানিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত তিনি রাজবীর এবং জিতু কমলকেই সমর্থন করবেন। তবে এই মতামত সম্পূর্ণই এক দর্শকের ব্যক্তিগত অভিমত; ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরের পরিস্থিতি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.