দিল্লিতে ফের চাঞ্চল্যকর অপরাধের অভিযোগ। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের পর ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। খুনের পর দেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে দেহের কিছু অংশ কুকুরে খুবলে খাওয়ারও প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পর পচাগলা অবস্থায় দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্বরূপ নগরের কুশক রোডে জয়পাল রানার একটি মাঠের কাছে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে প্রথমে সেটি পুরুষ না মহিলার, তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। দেহের কয়েকটি অংশ খুবলে যাওয়া অবস্থায় ছিল। কিছুটা দূরে একটি হাত পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে শুকনো রক্তের দাগও মিলেছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত কিশোরী এবং অভিযুক্তরা পূর্বপরিচিত ছিল। ঘটনার সময় তাঁরা একটি টেম্পোয় একসঙ্গে কোথাও যাচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের অভিযোগ, টেম্পোর ভিতরেই তারা মদ্যপান করে। এরপর কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে খুন করে মাঠে দেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
নিখোঁজ হওয়ার পরও অভিযোগ দায়ের করেনি পরিবার
কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের তরফে থানায় কোনও নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, কিশোরী মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েক দিন পর ফিরে আসত। তাই এবারও তাঁরা একইভাবে ফিরে আসবে বলে ভেবেছিলেন।
৫০টির বেশি CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত
ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় শুরুতে অভিযুক্তদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য ছিল না পুলিশের কাছে। এরপর ঘটনাস্থল এবং আশপাশের রাস্তায় থাকা ৫০টিরও বেশি CCTV ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়।
ফুটেজে একটি টেম্পোকে ওই এলাকায় যাতায়াত করতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে প্রথমে গাড়িটির নম্বর স্পষ্ট বোঝা যায়নি। এরপর বিভিন্ন এলাকার CCTV ফুটেজ মিলিয়ে টেম্পোটির গতিবিধি অনুসরণ করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পাওয়া যায়। চালককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নাবালক, বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার অস্ত্র ও পোশাক
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত দু’টি ছুরি, অভিযুক্তদের পরনের পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, কীভাবে গোটা ঘটনা ঘটেছিল এবং ফরেন্সিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের সঙ্গে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.