চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে আধুনিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটে স্মার্ট লকের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বায়োমেট্রিক সেন্সর, ডিজিটাল পাসওয়ার্ড কিংবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই প্রযুক্তি অনেকের কাছেই নিরাপত্তার প্রতীক। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে এই আধুনিক ব্যবস্থাই কখনও কখনও প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুন লাগার পর সবচেয়ে বড় বিপদ কেবল আগুনের শিখা নয়, বরং বিষাক্ত ধোঁয়া এবং দ্রুত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরের উপরের অংশে তাপমাত্রা কয়েকশো ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে। ঘন ধোঁয়ার কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং আতঙ্কে মানুষের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ব্যাহত হয়। এমন অবস্থায় দ্রুত ও বাধাহীনভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসাই জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক আবাসনে নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন লক ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে, যা জরুরি অবস্থায় সমস্যা তৈরি করছে। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, আগুনের তীব্র তাপ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বয়ংক্রিয় লক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাসিন্দারা ঘরের ভিতরে আটকে পড়েছেন এবং উদ্ধারকর্মীদের বিকল্প পথ তৈরি করতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডিজিটাল বা স্মার্ট লকের ভিতরে থাকা ইলেকট্রনিক সার্কিট, সেন্সর এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ অত্যধিক তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শর্ট সার্কিট, ব্যাটারি বিকল হওয়া কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে লক নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাক-আপ ব্যবস্থাও প্রত্যাশামতো কাজ করে না। আবার ভয় ও আতঙ্কের মুহূর্তে ব্যবহারকারীরা জরুরি কোড বা ম্যানুয়াল ওভাররাইড পদ্ধতি মনে রাখতে ব্যর্থ হন।
তবে প্রযুক্তিকে এককভাবে দায়ী করছেন না নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মূল সমস্যা সচেতনতার অভাব। অধিকাংশ পরিবার স্মার্ট লক ব্যবহার করলেও জরুরি অবস্থায় কীভাবে তা খুলতে হবে, সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা মহড়া থাকে না। একইভাবে বহু আবাসনে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বা জরুরি নির্গমন পরিকল্পনাও নিয়মিতভাবে করা হয় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্মার্ট লক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা বেছে নেওয়া উচিত, যাতে ভিতর থেকে সহজে ম্যানুয়ালি দরজা খোলা যায়। পরিবারের সকল সদস্যকে জরুরি ওভাররাইড পদ্ধতি শেখানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে লকের ব্যাক-আপ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা, ফায়ার ড্রিল করা এবং বিকল্প নির্গমন পথ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
আধুনিক প্রযুক্তি অবশ্যই নিরাপত্তা বাড়ায়, কিন্তু যে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবন রক্ষা করা। তাই স্মার্ট লক ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.