বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে অমনোযোগ, পড়া মনে রাখতে না পারা এবং দ্রুত মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক অনুশীলন কমে যাচ্ছে। ফলে বাবা-মায়েরা সন্তানের স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধির জন্য বিকল্প উপায় খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগব্যায়াম শিশুদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি সহজ যোগাসন অভ্যাস করলে মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, মন শান্ত থাকে এবং মনোযোগের ক্ষমতা উন্নত হতে পারে। এর মধ্যে তিনটি আসন বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়।
বৃক্ষাসন

বৃক্ষাসন শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মনকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্থির রাখতে শেখায়। এই আসনে এক পায়ে দাঁড়িয়ে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে হয়। ফলে একাগ্রতা বাড়ে এবং মানসিক স্থিরতা উন্নত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই আসন মনোযোগ বৃদ্ধিতে কার্যকর হতে পারে।
শশঙ্গাসন
শশঙ্গাসন একটি প্রশান্তিদায়ক যোগভঙ্গি। এতে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বিশ্রামের অবস্থানে যেতে হয়। এই আসন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে। পড়াশোনার চাপ বা দৈনন্দিন উদ্বেগে ভোগা শিশুদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী হতে পারে।
স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড
এই আসনে কোমর থেকে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে হাত দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করা হয়। নিয়মিত অনুশীলনে শরীরের নমনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি মাথার দিকে রক্তপ্রবাহও উন্নত হয়। এর ফলে সতেজতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
অভ্যাসের সময় কী মাথায় রাখবেন?
*খালি পেটে বা হালকা খাবারের পরে যোগাসন করা ভালো।
*শিশুদের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করতে হবে।
*জোর করে কোনও আসন করানো উচিত নয়।
*প্রথম দিকে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করানো নিরাপদ।
*নিয়মিত অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি সুফল দেয়।
শিশুর স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য শুধু যোগাসনই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাদ্য, খেলাধুলা এবং স্ক্রিন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিনের রুটিনে এই সহজ যোগাভ্যাসগুলি যুক্ত করতে পারলে শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.