রথযাত্রা মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, মিষ্টি— নানা পদের খাবারে জমে ওঠে মধ্যাহ্নভোজ। তবে উৎসবের আনন্দে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তার ফলেই দেখা দিতে পারে বদহজম, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পেতে মৌরির শরবত হতে পারে একটি ভালো বিকল্প।
কীভাবে তৈরি করবেন মৌরির শরবত?
প্রথমে একটি পাত্রে প্রায় ৩ কাপ জল নিন। তাতে আধ কাপ মৌরি, ২টি সবুজ এলাচ, ২টি লবঙ্গ এবং ৫-৬টি গোলমরিচের দানা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন।

এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে অন্য একটি পাত্রে রাখুন। স্বাদ অনুযায়ী মঙ্কফ্রুট বা অন্য কোনও কম-ক্যালরির প্রাকৃতিক মিষ্টি উপাদান যোগ করে আরও এক মিনিট ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা হতে দিন। এটিই হবে মৌরির সিরাপ।
শরবত বানানোর জন্য একটি গ্লাসে আধ টেবিলচামচ এই সিরাপ ঢালুন। তার সঙ্গে কয়েকটি তাজা পুদিনাপাতা, স্বাদমতো বিট নুন, সামান্য সাধারণ নুন এবং আগে থেকে হালকা ভেজে গুঁড়ো করা আধ চা-চামচ মৌরি মেশান। শেষে বরফকুচি ও প্রয়োজনমতো ঠান্ডা জল দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে পরিবেশন করুন।
মৌরির শরবত কেন উপকারী?
মৌরিতে অ্যানিথোল, ফেঞ্চোন এবং এস্ট্রাগোলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি হজমশক্তি বাড়াতে, পেট ফাঁপা কমাতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে আরাম পেতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
খাবারের পরে অনেকেই মুখশুদ্ধি হিসেবে মৌরি খান। আবার কেউ মৌরির চা পান করেন। শরবত হিসেবে মৌরি খেলে একই সঙ্গে সতেজতাও পাওয়া যায়, বিশেষ করে গরমের দিনে এটি শরীরকে আরাম দিতে পারে।
কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ
যাঁদের দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা, আলসার, গ্যাস্ট্রিকের গুরুতর অসুবিধা বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নিয়মিত এই ধরনের ঘরোয়া পানীয় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি না মিশিয়ে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো। উৎসবের দিনে অতিরিক্ত খাওয়ার পর এই সুগন্ধি মৌরির শরবত স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য এনে দিতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.