বিশ্ব লিভার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আবারও মনে করিয়ে দিলেন—লিভারকে সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এবারের থিম “Solid Habits, Strong Liver” মূলত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জনের উপর জোর দেয়।
আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করা, হজমে সহায়তা এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কিছু ভুল ধারণা এবং অসচেতনতা এই অঙ্গটির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ধূমপান: শুধু ফুসফুস নয়, লিভারেরও ক্ষতি
অনেকেই মনে করেন ধূমপানের ক্ষতি মূলত ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রে সীমাবদ্ধ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তামাকজাত দ্রব্যে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে লিভারের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ধূমপানের ফলে শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। এর ফলে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত ধূমপান করলে ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। সিগারেটে থাকা হাজার হাজার রাসায়নিক উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে।
প্যারাসিটামল: নিরাপদ হলেও সীমার বাইরে বিপজ্জনক
সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা হলে অনেকেই নিজে থেকেই প্যারাসিটামল খেয়ে নেন। যদিও এই ওষুধটি সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে নিরাপদ, কিন্তু মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা লিভারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্তই প্যারাসিটামল গ্রহণ করতে পারেন। তবে তা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নিতে হয়। এর বেশি গ্রহণ করলে লিভারে বিষাক্ত প্রভাব পড়তে পারে এবং গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যাদের আগে থেকেই লিভারের সমস্যা রয়েছে বা অন্য কোনও রোগের জন্য ওষুধ চলছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল খাওয়া উচিত নয়।
সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি
লিভারের রোগ অনেক সময় প্রথমদিকে তেমন লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনই একমাত্র উপায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—
* ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা
* অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
* সুষম খাদ্য গ্রহণ
* নিয়মিত ব্যায়াম করা
* চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া
স্বাস্থ্য পরিষেবার নতুন উদ্যোগ
বর্তমানে অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য হন। বিশেষ করে বড় অপারেশন বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই পরিস্থিতি সহজ করতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা এখন তথ্যকেন্দ্র ও দ্রুত চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে রোগীরা সহজে পরিষেবা পান।
উপসংহার:
লিভার সুস্থ রাখতে বড় কোনও জটিল নিয়মের দরকার নেই—প্রয়োজন শুধু সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। ধূমপান ও ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করলেই অনেক বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.