বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তরুণ অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর করিনা কায়সার আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
করিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা, দেশের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও চলছিল। জানা যায়, তার ভাই তাঁর জন্য লিভার দান করতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু শারীরিক জটিলতা এতটাই বেড়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করিনা কায়সার ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। অভিনয়, লাইফস্টাইলভিত্তিক কনটেন্ট এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি তরুণ দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। ইউটিউব ও ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। ছোট পর্দা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকটি কাজের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা ও সম্পর্কভিত্তিক গল্পে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র উপস্থাপনা ও ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের কারণেও তিনি ভক্তদের কাছে ছিলেন প্রিয়।
তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে উঠেছে। সহকর্মী শিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং অনুরাগীরা স্মরণ করছেন তাঁর হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব ও কর্মপ্রাণ মনোভাবকে। অনেকেই লিখেছেন, অল্প বয়সে তাঁর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খুব দ্রুত তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
করিনা কায়সারের অকাল প্রয়াণ বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনের জন্য বড় এক ক্ষতি হয়ে থাকল। তবে তাঁর নির্মিত কাজ ও স্মৃতিগুলো দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.