রাতভর চলা মাচার অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার সরব হলো মেদিনীপুরের এক খুদে শিল্পী। সমাজমাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সারেগামাপা-খ্যাত অঙ্কনা। তার বক্তব্য, বিনোদনের আড়ালে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এসব অনুষ্ঠানের ফলে শিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং গাড়িচালকদের উপর প্রবল শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
নিজেকে মেদিনীপুরের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে অঙ্কনা জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার তুলনায় মেদিনীপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এই জেলা থেকেই পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হোক বলেই তার আশা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তার প্রস্তাব, গ্রীষ্মকালে রাত ১২টার মধ্যে এবং শীতকালে রাত ১১টার মধ্যে সমস্ত অনুষ্ঠান শেষ করার নিয়ম চালু করা হোক। পাশাপাশি, প্রতিটি অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সে।
অঙ্কনার মতে, মঞ্চে শিল্পীরা নির্দিষ্ট সময় গান গেয়ে চলে এলেও বাদ্যযন্ত্রীদের দীর্ঘক্ষণ টানা কাজ করতে হয়। রাতভর অনুষ্ঠান চললে তাঁদের বিশ্রামের সুযোগ প্রায় থাকে না। এতে শারীরিক ক্লান্তি যেমন বাড়ে, তেমনই কাজের মানও প্রভাবিত হয়।

সে আরও দাবি করেছে, গভীর রাতের দিকে অনুষ্ঠানস্থলে সুস্থ ও স্বাভাবিক দর্শকের সংখ্যা কমতে থাকে। অনেক সময় শিল্পীদের এমন গান পরিবেশন করতে চাপ দেওয়া হয়, যা তাঁদের নিজস্ব ঘরানার সঙ্গে যায় না। ফলে শিল্পচর্চার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চিঠিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে খুদে শিল্পী। তার অভিযোগ, অনেক অনুষ্ঠানে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু উদ্যোক্তা বা আয়োজক মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি সৃষ্টি করেন। কখনও নিজেদের মধ্যে বিবাদ, আবার কখনও সেই পরিস্থিতির দায় গিয়ে পড়ে শিল্পী বা ব্যান্ডের উপর। এতে অনুষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অঙ্কনা উল্লেখ করেছে পথ দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে। গভীর রাতে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ক্লান্ত চালকদের ঘুম চলে আসা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেছে সে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠান সেরে ফেরার সময় বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে জানিয়েছে অঙ্কনা। ভাগ্যক্রমে সে যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে পুরো দল।
চিঠির শেষে খুদে শিল্পী জানিয়েছে, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠান করতে পারলে শিল্পীরাও সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান। তাই শিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে সে।
অঙ্কনার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সংগীতমহল ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের এক বাস্তব সমস্যাকে সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে মেদিনীপুরের এই তরুণ শিল্পী। এখন নজর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.